বাগেরহাট সংবাদদাতাঃ
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে কুমড়া বড়ি তৈরি করে আয়ের নতুন পথ খুঁজে নিয়েছেন শত শত নারী। গৃহস্থালির কাজের ফাঁকে তারা এই বড়ি তৈরি করে বিক্রির মাধ্যমে প্রতি মাসে ভাল টাকা আয় করছেন। যা তাদের অনেকের সংসারের সচ্ছলতা এনে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এ কাজের সাথে জড়িত। এখানকার কুমড়া বড়ি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে সারা দেশে।
চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় এখন বড়ি তৈরির উৎসব চলছে। মূলত চাল কুমড়া, মুলা, মানকচু ও শসার মণ্ডের সঙ্গে মাষকলাইয়ের ডাল মিশিয়ে এই সুস্বাদু বড়ি তৈরি করা হয়। ভোর থেকে ডাল বাটা আর কুমড়া কোরানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন গৃহবধূরা। এরপর নিপুণ হাতে চাটাই কিংবা পাতলা কাপড়ের ওপর সারি সারি বড়ি বসিয়ে রোদে শুকানো হয়।
ব্রহ্মগাতি গ্রামের স্মৃতি ভট্টাচার্য জানান,আগে শুধু নিজেদের খাওয়ার জন্য বানালেও এখন তিনি ফরমাশ অনুযায়ী বিক্রিও করছেন। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কুমড়া বড়ি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাহিদাও বেশ ভালো, অনেকেই অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখছেন।
উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের সবজি চাষি সুব্রত মণ্ডল জানান, চিতলমারীতে প্রচুর পরিমাণে চাল কুমড়া চাষ হয়। অনেক সময় জমি থেকে সব কুমড়া বিক্রি হয় না। সেই অবিক্রীত কুমড়া নষ্ট না করে তা দিয়ে বড়ি তৈরি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন অপচয় কমছে, অন্যদিকে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় গৃহবধূ চম্পা হীরা ও মীরা রানী বলেন, ‘চাল কুমড়া আর মাষকলাইয়ের ডালের বড়ির স্বাদই আলাদা। মাছের ঝোল বা নিরামিষ তরকারিতে এই বড়ি দিলে স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যায়। শহরের মানুষের কাছেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।’
চিতলমারীর এই গ্রামীণ নারীদের হাতে তৈরি বড়ি এখন স্থানীয় অর্থনীতির এক নতুন শক্তি। ঘরে বসে নারীদের এই স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ ও ঋণের ব্যবস্থা করলে এই ক্ষুদ্র শিল্পটি আরও বড় আকার নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃ/স/জয়