সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
চলনবিলে পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলকার শুটকি চাতালগুলো এখন অনেকটাই ফাঁকা। প্রতি বছর এসময় বিল থেকে প্রচুর দেশি প্রজাতির মাছ মিলতো। কিন্তু এবার তার দেখা নেই। মাছের অভাবে শুটকি চাতালের শ্রমিকরা অলস বসে সময় পার করছেন। এতে শুঁটকি চাতাল ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
উল্লাপাড়া,সলঙ্গা,তাড়াশ উপজেলার বিলের ধারে অন্তত দুই শতাধিক শুটকি চাতাল স্থাপন করেছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছর স্থানীয় সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এই চাতাল স্থাপন করেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তারা চাতাল স্থাপন করলেও কাঙ্খিত শুটকি উৎপাদন করতে পারছেন না। ব্যবসায়ীরা বলছেন চলনবিল থেকে আগে যে পরিমাণ দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত তা আর আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারন হিসাবে তারা বলছেন,বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিলে চায়না দুয়ারী সহ নানা ধরছেন জালে ছোট বড় মাছ ধরায় এর বংশ ধ্বংস হতে বসেছে। ফলে দেশি মাছ মিলছে না।
চলনবিলের বিভিন্ন শুঁটকি চাতার ঘুরে দেখা যায়, খুব সামান্য পরিমাণ মাছ রোদে শুকানো হচ্ছে এবং চাতালের অধিকাংশ জায়গা ফাঁকা পড়ে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানানÑশোল, বোয়াল, টাকি, শিং, মাগুর, কৈ, পাবদা, টেংরা, বেলে, চিংড়ি, পুঁটি, মলা, ঢেলা, চাঁদা, কাচকি, বাইম, বাতাসি, ফলি ও আইড়সহ বিভিন্ন দেশি মাছ পরিষ্কার করে লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণের পর বাঁশের চাতালে শুকানো হয়। এসব দেশি শুঁটকি দেশের বিভিন্ন জেলাসহ বিদেশেও রপ্তানি হয়। কিন্তু এবার মাছের সরবরাহ কম এবং দাম চড়া হওয়ায় স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
শুঁটকি ব্যবসায়ী আনিছ জানান, বছরের এই সময়ে প্রচুর মাছ পাওয়ার কথা থাকলেও এবার চড়া দামে কম মাছ কিনতে হচ্ছে, যা দিয়ে আগের মতো উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।
উল্লাপাড়ার পাঙ্গাসী এলাকার শুটকি ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন জানান,মাছ পাচ্ছি না। প্রতি বছর এসময় অনেক মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এবার বিলে মাছ নেই। মাছের অভাবে তার চাতালের অর্ধেক ফাঁকা পড়ে আছে।
চাতাল শ্রমিক খাদিজা ও সোবাহান জানান, আগে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাছ কাটা, ধোয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো। সেই উপার্জনেই চলত সংসার ও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা। তবে মাছের অভাবে কাজ অর্ধেকের নিচে নেমে আসায় এখন অধিকাংশ সময় বেকার বসে থাকতে হচ্ছে, ফলে পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।
তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, দেশি প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নানা কার্যক্রম চালু রয়েছে। অবৈধ জালের ব্যবহার রোধ, পোনা মাছ রক্ষা এবং প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ ও অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
কৃ/স/জয়