কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 26, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ওল চাষে রূপকের ভাগ্য পাল্টেছে

চট্রগ্রাম সংবাদদাতাঃ 
চট্রগ্রামে ওল চাষাাবদে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন রূপক দে নামে এক চাষী। তিনি কৃষি বিভাগের সহায়তায় ২০ শতক জমিতে এ চাষাবাদে তিনি খরচ বাদে লাখ টাকা আয়ের কথা বলছেন। এই চাষীর বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা।

জানা যায়,এই চাষী এবার কর্ণফুলী নদীর তীরে খরণদ্বীপ বিলে ২০ শতক জমিতে ওলের আবাদ করেন। রাঙামাটির ঘাগড়া বাজার থেকে কচুর বীজ সংগ্রহ করেন তিনি। এক হাজার ৪শ’টাকা করে ঝুড়ি হিসাবে ১০ ঝুড়ি বীজ কিনে বপন করেন। বীজ রোপণ ও পরিচর্যায় প্রতিটির পেছনে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা খরচ হয়। পরে জমি থেকেই প্রতিটি ওল তুলে  ১২০ থেকে ১৫০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি করা যায়।

২০২২ সালে প্রথমে কৃষি বিভাগের সহায়তায় ১৪ শতক জমিতে ওল কচুর চাষ শুরু করেন। অভিজ্ঞতা না থাকায় সেবার তেমন ভাল ফল পাননি। তবে ফলন ও বাজারদর ভালো পাওয়ায় পরে তিনি বুঝতে পারেন, ওল কচু চাষে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর থেকে তিনি প্রতি বছর এ চাষাবাদ করে আসছেন। 

চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত তার চাষকৃত ২০ শতক জমি থেকে প্রায় অর্থ লাখ টাকার ওল কচু বিক্রি করেছেন রূপক দে। সব ওল বিক্রি শেষে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

স্থানীয় বাজারে বর্তমানে ওল কচু পাইকারি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পরে ব্যবসায়ীরা তা খুচরা বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।

ওল চাষী রূপক জানান, ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বীজ থেকে প্রায় দুই  কেজি, ৩০০ গ্রাম বীজ থেকে প্রায় পাঁচ কেজি এবং এক কেজি ওজনের বীজ থেকে প্রায় আট কেজি পর্যন্ত ওল পাওয়া যায়। চৈত্র মাসে বীজ রোপণ করা হয়। প্রায় ছয় মাস পর ভাদ্র মাসে তা বিক্রির উপযোগী হয়। তবে পরিপক্ব হওয়ার প্রায় এক মাস আগেই বিক্রি শুরু করা যায়। শুরুতে কিছুটা বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়। চৈত্র মাসে তাপমাত্রা বেশি থাকায় জমিতে নিয়মিত পানি দিতে হয়। এতে বীজ ও মাটি স্যাঁতসেঁতে থাকে। মাসে তিন থেকে চারবার পানি দিতে হয়। প্রতিবার পানি দিতে খরচ হয় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। 

রূপকের সাফল্য দেখে স্থানীয় তিন-চারজন কৃষক এবার ওল কচুর চাষ শুরু করেছেন বলে জানান তিনি। 

বোয়ালখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর ইসলাম বলেন, চলতি বছর এ উপজেলায় প্রায় দুই হেক্টর জমিতে ওল কচুর চাষ হয়েছে। এক হেক্টর জমিতে ওল কচু চাষ করলে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যেতে পারে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, এক হেক্টর জমি থেকে কৃষকের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে। বিশেষ করে ছায়াযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে জমি এবং পাহাড়ের ঢালে ওল কচুর ফলন ভালো হয়। এসব এলাকায় কৃষকদের ওল কচু চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাজার কোটি টাকার ছাড়াবে সিরাজগঞ্জের সরিষাকেন্দ্রিক বাণিজ্য

1

কারন ছাড়াই কাটা হচ্ছে সাড়ে চার হাজার গাছ

2

মাছ চাষে কালামের ঈশ্বনীয় সফল্য

3

পিরোজপুরে ব্যতিক্রমী ভাসমান পেয়ারার বাজার

4

কাজিপুরে কৃষকদের মাঝে স্প্রে মেশিন বিতরণ

5

যমুনার চরাঞ্চলে সবুজের সমারোহ

6

ফিড কারখানার ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ মানুষ

7

চায়না দুয়ারি জালে বিপন্ন জীববৈচিত্র্য

8

মিয়ানমারে পাচারের সময় সার ও সিমেন্ট সহ আটক ৬

9

হাওরের ধান যথাসময়ে কাটতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : কৃষ

10

সংসদের সম্মতি থাকলে পুরাতন ডিলার বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ: প্রধান

11

দূষণমুক্ত নদী ও পরিবেশ নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

12

বিরলে ১৩৯১ বস্তা সার উদ্ধার

13

মাচায় ঝুলছে হলুদ-কালো তরমুজ

14

কাজীপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ চত্বরে বৃক্ষরোপণ

15

রাজবাড়ীতে দেশি মাছের উৎপাদনে ফিরছে সুদিন

16

পলিটানেলে তরমুজ চাষে সাফল্য

17

২০০ কোটি টাকার কলা বিক্রির আশা

18

সুন্দরবনে শালপাতা মাছসহ ৬ জেলে আটক

19

বাউয়েটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র উদ্বোধন

20