কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নরসিংদীর কাকরোল চাহিদা মেটাচ্ছে সারা দেশে

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলায় কাকরোল চাষাবাদ হচ্ছে। এসব উপজেলার মাঠের পর মাঠ কাকরোল চাষাবাদ করছেন কৃষকরা। এ চাষাদেও মাধ্যমেই তরা আয় করছেন মোটা অংকের টাকা। দেশের বেশিরভাগ কাকরোলের চাহিদা মেটায় এখানকার চাষীরা। তবে এসবের মাঝেও চাষীদের অভিযোগ,নানা রোগে এ চাষাবাদে ারা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও কৃষি বিভাগ তাদের কোন খোঁজই রাখে না। 

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় কাকরোলের  চাষাবাদ বেশী। এ উপজেলার গ্রামের পর গ্রাম, মাইলের পর মাইল যতদূর চোখ যায় শুধু কাকরোলের মাচা চোখে পড়বে। আর এর নিচে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে কাকরোল। সারা দেশে যত কাকরোল কেনা-বেচা হয় তার সিংহভাগই যায় এসব এলাকা থেকে। চাষাবাদ ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুর করে জীবন-জীবিকা সব কিছুই এখানে কাকরোল কেন্দ্রিক। এসব এলাকা কাকরোলের গ্রাম বলেই পরিচিত। নরসিংদীর শীবপুর, রায়পুরা ও বেলাবো উপজেলাতেই কাকরোল চাষাবাদ হচ্ছে। এসব উপজেলার কৃষকরা সবজি বলতে বেশিরভাগ এ চাষাবাদে যুক্ত দীর্ঘদিন ধরে। 

তথ্যনুসন্ধানে জানা যায়, কাকরোল বর্ষাকালীন সবজি হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। পুষ্টিগুণে ভরপুর এ সবজির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এর উৎপাদন। নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর ৫টি উপজেলার ৪৫টি গ্রামে এ সবজির চাষাবাদ হয়। ঠিক কবে থেকে এসব এলাকায় এ চাষাবাদের প্রচলন হয়েছে তা কেউ বলতে পারেন না। তবে কয়েক যুগ ধরে শত শত এ চাষাবাদ করছেন। যা বেশ জনপ্রিয় এবং লাভজনক। 

নরসিংদী উন্নয়ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছর শিবপুর, বেলাবো ও রায়পুরা উপজেলায় প্রায় দেড় কোটি টাকার কাকরোল উৎপাদন হয়। আর নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ এবং আড়াই হাজারে ৫০ লাখ টাকার কাকরোল উৎপাদন হয়। সে হিসেবে এখানে ১ হাজার ৫শ পরিবার সাড়ে ৫ হাজার বিঘা জমিতে এ কাকরোলের চাষ করছেন। 

স্থানীয় কৃষকদের দেয়া হিসেব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে গড়ে ১০ মণ কাকরোল উৎপন্ন হয়। মণ প্রতি গড় মূল্য ৭ শ ৫০ টাকা হিসেবে ৫০ হাজার মণ কাকরোলের বাজার মূল্য দাঁড়ায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকারও বেশী। মৌসুমের শুরতে দাম খানিকটা চড়া থাকলেও পরে তা নিচে নেমে আসে ।

আষাঢ-শ্রাবণ-ভাদ্র এ তিন মাস কাকরোলের জমজমাট ব্যাবসা চলে। তবে এখন এ সবজি বৈশাখ মাসের শুর থেকেই মিলে। চাষের সময় তিন মাস হলেও এরপরও খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলে আরও ৩ মাস । এ কয় মাসের আয় দিয়েই তাদের চলতে হয় পুরো বছর। তবে যা আয় হয় তা মন্দ নয়। দাম ভালো পাওয়ায় আনেকেই এখন কাকরোল চাষে স্বচ্ছলতা ফিরে পেয়েছেন।

কৃষকরা বলছেন,এখানকার অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, রোগের প্রাদুর্ভাব প্রভৃতি কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাকরোল চাষিদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে । কৃষি বিভাগ তাদের এই চাষাবাদে তেমন কোন সহায়তা করে না। এমনকি তাদের কেউ মাঠেও আসে না। 
কৃষকদের উৎপাদিত কাকরোল কেনাবেচা কে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি হাট ও পাইকারী বিক্রয় মোকাম। দুর দুরান্ত থেকে পাইকাররা এখান থেকে কাকরোল কিনে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। 

কুমিল্লা থেকে হাটে আগত আব্দুর জব্বার ব্যাপারি জানান, তিনি ২ ট্রাক কাকরোল কিনেছেন। ১ ট্রাক তিনি কুমিল্লায় নিজ আড়তে ও অন্য ট্রাকটি পাঠাবেন রাজধানীর সায়েদাবাদে। তার মতো অনেক ব্যাপারী এখান থেকে কাকরোল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশি কৃষি শ্রমিক নেবে ওমান

1

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে হরিপাশা খাল

2

দেশে খাদ্য মজুত ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করা হচ্ছে

3

মূল্যস্ফিতি কিছুটা বেড়েছে

4

ফরিদপুরে লোকসানের মুখে মরিচ চাষিরা

5

কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের ভ

6

সমুদ্রে ওভারফিশিংয়ের ঝুঁকি বেড়েছে

7

পেঁয়াজ পচা রোধে বড় উদ্যোগ, বসছে ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন : কৃ

8

জুনিয়র বিসিএস কর্মকর্তার ঘুষিতে রক্তাক্ত সিনিয়র কর্মকর্তা

9

বজ্রপাতে প্রাণ গেলো বাবা ছেলের

10

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ১০০ কোটি টাকার ভর্তুকি

11

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখন সর্বোচ্চ

12

বিভেদের জেরে ব্রি’র মহাপরিচালকের দায়িত্বে অতিরিক্ত সচিব

13

কোড়ল আহরণে বিলুপ্তির পথে বাঁশের প্রজাতি

14

আসিয়ানের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক উচ্চতায় নিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ

15

বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

16

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় গাছ বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্য স

17

শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন

18

এলপিজির দাম বাড়ল ৭০ টাকা

19

মডেশ চাকমার উদ্ভাবিত ‘ক্রপস ডক্টর’ ঘরে বসে ফসলের রোগ শনাক্ত

20