কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 20, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

গোমতীর চরে মুলার বাম্পার ফলন

কুমিল্লা সংবাদদাতাঃ 
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে গোমতী নদীর উর্বর চরে মুলার ভাল ফলন হয়েছে এবার। ইতোমধ্যে আগাম মুলা তোলা বিক্রি চলছে পুরোদমে। চাষীরা বলছেন বাজারে ভাল দাম থাকায় মুলা বিক্রি করে তারা লাভবান হচ্ছেন। 

বুড়িচং উপজেলার গোমতীর চরের এলাকার মীরপুর, কাঠালিয়া, কাচিয়াতলী, ভান্তিসহ আশপাশে বিপুল পরিমাণ জমিতে প্রতি বছর মুলা চাষাবাদ হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। চরের উর্বও মাটিতে মুলাল বাম্পার ফলন হয়। এবারও কৃষকরা আগাম মুলা চাষাবাদ করে ভাল ফলন পেয়েছেন। ইতোমধ্যে এই চরের বিভিন্ন জমি থেকে আগাম মুলা তুলে বিক্রি শুরু করেছেন চাষীরা। জমি থেকে মুলা উত্তোলন, ধোয়া ও বাজারজাতকরণে সরগরম হয়ে উঠেছে নিমসার বাজার। সেখান থেকে পাইকারদের হাত ধরে এসব মুলা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। মূলত মুলা শীতকালীন সবজি হলেও বর্ষাকালে বাজারমূল্য বেশি থাকায় এ সময়ে চাষাবাদে আগ্রহী এখানকার কৃষকরা। 

কাঠালিয়া এলাকার মুলা চাষী আব্দুল লতিফ জানান,তিনি প্রতি বছর চরের জমিতে আগাম মুলা চাষাবাদ করেন। এই সময়ে মুলা তুলে বাজারে বিক্রি করে ভাল দাম পাওয়া চায়। এতে তারা লাভবান হন। তাই প্রতি বছর এই মুলা চাষাবাদ করেন। 

মীরপুর এলাকার রুহুল আমিন জানান, সারাদেশে একযোগে সবাই মুলার চাষ করায় বাজারমূল্য অনেকটা কম থাকে। তাই বর্ষাকালে চরের জমিতে  মুলা চাষ করেন। প্রতি শতাংশে এই চাষাবাদে হাজার টাকা খরচ হয়। বাজার ভাল থাকলে এক বিঘা জমি থেকে প্রায় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়। 

চরের মুলা ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য উপজেরার নিমসার বাজারে ড়ে উঠেছে পাইকারি বাজার। যেখানে চাষীরা সহজেই মুলা বিক্রি করতে পারেন। জমি থেকেও পাইকাররা মুলা কিনে নেন। এতে চাষীদের কষ্ট কম হচ্ছে। এখানকার মুলা পাইকারদেও হাত ধরে চলে যাচ্ছে সারা দেশে। 

মুলার পাইকার মশিউর জানান, কখনও বড় বড় ক্রেতারা সরাসরি ট্রাক্টর থেকেই মুলা কিনে নেন। এজন্য বাজারের ইজারাদারকে ট্রাক্টরপ্রতি ৩০০ টাকা খাজনা দিতে হয়। আবার কখনও আড়তেও নিয়ে বিক্রি করতে হয়। এজন্য আড়তদারকে গাড়িপ্রতি ২ হাজার টাকা কমিশন দিতে হয়। বর্তমানে প্রতি কেজি মুলা পাইকারি বাজারে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরেক পাইকার হাসান জানান, আমরা চরে গিয়ে জমির আকার ও ফসল দেখে দরদাম নির্ধারণ করি। এরপর শ্রমিক দিয়ে জমি থেকে মুলা তুলে ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন জলাশয়ে পরিষ্কার করে নিমসার বাজারে নিয়ে যাই। এজন্য শ্রমিক প্রতি প্রতিদিন এক হাজার টাকা করে দিতে হয়।

বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসা. আফরীণ আক্তার বলেন, এবার প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে আগাম মুলা চাষ হয়েছে। কৃষকদের সবসময় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে প্রণোদনা এলে চাষিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নকল মধু তৈরি,লাখ টাকা জরিমানা

1

তিন বছরে অগ্রগতি ২২ শতাংশ, এবার কি গতি ফিরবে পার্টনারে?

2

আঙুর চাষে রুহুল আমিনের সাফল্য

3

তিন বিঘা জমির কলা গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

4

হাসের বাচ্চা ফুটিয়ে চলে তাদের সংসার

5

শরীয়তপুরে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

6

নলডাঙ্গায় আমনে রোপণে ব্যস্ত কৃষক

7

মানুষ প্রকৃতির মালিক নয়, এর অবিচ্ছেদ্য অংশ : রিজওয়ানা হাসান

8

করমুক্ত আয়সীমা পৌনে চার লাখ টাকা করার প্রস্তাব

9

সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকারী ৮ জেলে আটক

10

মালচিং করলা চাষে ইমরানের সাফল্য

11

সাতক্ষীরায় ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা

12

উৎপাদনকেন্দ্রিক কৃষি থেকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর ঘটাতে হব

13

ময়মনসিংহে মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী - মৎস্য

14

মাছের আঁশ বেচে আয় জেলে পরিবারের

15

চলনবিলের তাজা মাছ, সূর্য ওঠার সাথে সাথেই জমে ওঠে আড়ৎ

16

শ্বেতশুভ্র ২শÕবছরের দুধের বাজার

17

জেলে কার্ডের সুবিধা নিচ্ছেন ভিন্ন পেশার মানুষ

18

ডিম-মুরগি বিক্রি : সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের পাশাপাশি ন্যূনতম

19

শ্রীলঙ্কার পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্ট

20