দিনাজপুর সংবাদদাতাঃ
দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা আমন ধানের ক্ষেতে পোকা দমনে পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। সুফলতা মেলায় দ্রুত বাড়ছে এ পদ্ধতি ব্যবহারকারী।
দিনাজপুরে এবার ২ লাখ ৭২ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে উপশী জাতের ধান ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ হেক্টর, স্থানীয় জাত এক হাজার ৯৯০ হেক্টর ও হাইব্রিড ১২ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
আবহাওয়া ভাল থাকায় মাঠে মাঠে ধানের ভাল ফলন দেখা যাচ্ছে। ধান গাছ বড় হলে এতে নানা ধরনের ক্ষতিকারক পোকার আক্রমন দেখা দেয়। কৃষকরা এসব পোকা দমনে নানা ধরনের কিটনাশক ব্যবহার করে থাকেন। এতে তাদের উৎপাদন খরচ বাড়ার সাথে সাথে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে। কৃষি বিভাগ এই পোকা দমনে কৃষকদের পাচিং পদ্ধতি ব্যবহারে সচেতন করে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের সচেতনতায় কৃষকরা তাদের আমন ধানের জমিতে এখন পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
জেলার সদর উপজেলার নশিপুর, কর্নাই, উত্তর সাদিপুর এবং গবিন্দপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ধান ক্ষেতে পোকা দমনে এই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। কৃষকেরা আমন ক্ষেতের মধ্যে বাঁশের খুঁটি ও বিভিন্ন গাছের ডাল খুঁটি হিসেবে পুঁতে রেখেছে। এসব পুঁতে রাখা ডালের খুঁটি ওপর দোয়েল, ফিঙ্গে, শালিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে আছে। পাখিগুলো ক্ষেতের পোকা খেয়ে ধান ক্ষেতের উপকার করছে। ফলে ধান ক্ষেতে পোকার আক্রমণ কমে যায়। এটি ব্যয় বিহীন, পরিবেশ বান্ধব এবং কীটনাশক মুক্ত পদ্ধতি, যা ফসলের উৎপাদন খরচ কমায় এবং নিরাপদ ফসল পেতে সাহায্য করে।
দিনাজপুর আঞ্চলিক কৃষি অধিদপ্তরে পোকা নিধন বিষয় নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত কর্মকর্তা মো. সদরুল আলম জানান,চাষ ও ফসল উৎপাদনের প্রধান অন্তরায় ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ। জমিতে সার দেওয়ার পর থেকেই ক্ষেতে ক্ষতিকর ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এ সব পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকরা কৃষি ও পরিবেশ বান্ধব পার্চিং পদ্ধতি এবং ডেড ও আলোর ফাঁদ ব্যবহারে ব্যাপক ভাবে উপকৃত হচ্ছেন। তবে এর মধ্যে পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করা কৃষি বান্ধব পরিবেশ খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
সদর উপজেলার উলিপুর গ্রামের কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ধানক্ষেতে ক্ষতিকর ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে আমরা ব্যাপক সফল হয়েছি।
দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মাসুদ তুষার জানান, পার্চিং পদ্ধতি বালাই-নাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশ দূষণ মুক্ত রাখতে ভূমিকা রাখছে। সেই সাথে জমিতে জৈব সার ও গোবর প্রয়োগে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সদর উপজেলাতে ধান চাষে গত কয়েক বছর ধরে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার কৃষকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, আমরা গত দু’বছর ধরে ধানক্ষেতের পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করে আসছি। এতে চাষীরা এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ভাল ফল পাচ্ছেন।
কৃ/স/জয়