কৃষি সময় ডেস্কঃ
সরকার সারা দেশের কৃষকদেও দাবীর প্রেক্ষিতে আলু সংরক্ষণে হিমাগার ভাড়া কমিয়েেেছ। চলতি মৌসুমে আলু সংরক্ষণের সর্বোচ্চ ভাড়া কেজিপ্রতি ৬ টাকা নির্ধারণ করে সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। গত মৌসুমে হিমাগার ভাড়া ছিল কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা। সে হিসাবে এবার ভাড়া কমেছে ৭৫ পয়সা।
তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে হিমাগার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ)। তাদের দাবি, বিদ্যুতের দাম ও পরিচালন ব্যয় বাড়ার কারণে হিমাগার খাতে ব্যয় বেড়েছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর দেশে ১ কোটি ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশে হিমাগার রয়েছে ৪০২টি। এছাড়া অ-হিমায়িত মডেল ঘর রয়েছে ৭০৩টি। এসব হিমাগার ও মডেল ঘরে চলতি মৌসুমে মোট ৩৩ লাখ ৯০ হাজার ৫৭ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা মোট উৎপাদনের ২৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
সংরক্ষিত আলুর মধ্যে ২৪ লাখ ৪৪ হাজার ১৪৮ টন খাওয়ার জন্য এবং ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৯১০ টন বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে বিসিএসএর সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর দাবি, বর্তমানে বেসরকারি বাণিজ্যিক হিমাগারগুলোতে প্রায় ২৩ লাখ টন আলু সংরক্ষিত রয়েছে।
বিসিএসএর তথ্যানুযায়ী, নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে কোল্ড স্টোরেজের বিদ্যুৎ ব্যয় গড়ে প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। আগে অফ-পিক আওয়ারে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ছিল ১৩ টাকা ৬২ পয়সা। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১৬ টাকা ৬ পয়সা। আর পিক আওয়ারে প্রতি ইউনিটের দাম ৯ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বেড়ে ১১ টাকা ৫৬ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
বিসিএসএর হিসাবে, ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতার একটি হিমাগারে ব্যাংক ঋণের সুদ ও কিস্তি এবং বর্ধিত বিদ্যুৎ ব্যয়সহ প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণে ব্যয় হয় ৭ টাকা ১১ পয়সা। এর সঙ্গে কর্মীদের বেতন-ভাতা, অ্যামোনিয়া গ্যাস, লুব্রিক্যান্টসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ এবং যৌক্তিক মুনাফা বিবেচনায় কেজিপ্রতি ভাড়া ৯ টাকা ৬২ পয়সা হওয়া উচিত বলে দাবি তাদের। তবে কৃষকদের কথা বিবেচনায় নিয়ে সম্প্রতি কেজিপ্রতি ৭ টাকা ভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল সংগঠনটি।
সংগঠনটির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত বছরের জুলাইয়ে আমার যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল এসেছিল, চলতি বছরের জুলাইয়ে তার চেয়ে ২৫ লাখ টাকা বেশি এসেছে। আগামী পাঁচ মাস গড়ে এমন বেশি এলে আমার বিদ্যুৎ ব্যয় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা বাড়বে। অথচ হিমাগার ভাড়া উল্টো কমেছে।
নীলফামারীর জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত মুক্তা হিমাগারের মালিক শরিফুল ইসলাম জানান, কেজিপ্রতি ৭৫ পয়সা ভাড়া কমানোর ফলে তার প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আয় কমবে। গত বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকা লাভের আশা থাকলেও এবার লোকসান হবে কিনা তা হিসাব করছেন তিনি।
কৃ/স/জয়