রাজশাহী প্রতিনিধিঃ পুকুরে এক বিঘা জমির পাট পাট জাগ দিতে কৃষকদের গুনতে হচ্ছে ২ হাজার টাকা। এ ঘটনা রাজশাহীর বাঘা উপজেলায়। উপায় না থাকায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে টাকার বিনিময়ে পুকুরে পাট জাগ দিচ্ছেন। এতে তাদের উৎপাদন ব্যায় বেড়ে যাচ্ছে অনেক।
জানা যায়,বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার গোচর গ্রামের জিল্লু সরদার নিজের পুকুরে পাট জাগ দেয়ার এ পদ্ধতি চালু করেছেন। তিনি শ্যালো মেশিন দিয়ে নিজের পুকুরে পানি জমাচ্ছেন। সেই পুকুরে এলাকার চাষিরা পাট জাগ দিচ্ছেন।
এক বিঘা জমিতে ১০-১২ মণ পাট উৎপাদন হয়। পাট চাষ করতে ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হয়। দাম ভালো পাওয়ার আশায় এবার চাষিরা বেশি করে পাট চাষ করেছেন। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলেও পাট জাগ দেওয়ার মতো পুকুর ডোবায় পাট জাগ দেওয়ার মতো পানি জমে নাই। কোন উপায় না পেয়ে পুকুর ভাড়া নিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন চাষিরা।
আগাম ধান রোপনের জন্য পুকুর ভাড়া নিয়ে বর্তমানে পাট কাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছুড়ানো এবং শুকানোর কাজ করছেন চাষীরা।
আড়ানী চকরপাড়া গ্রামের পাট চাষি আমিরুল ইসলাম বলেন, আমার এক বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছি। বৃষ্টি না থাকায় পাট জাগ দিতে পারছিলাম না। পাট কাটার পর জানতে পারলাম জিল্লুর সরদার নামের এক ব্যক্তি নিজের শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি দিয়ে পাট জাগ দেয়ার জন্য পুকুর প্রস্তুত করছেন। এক বিঘা জমির পাট জাগ দিয়ে ২ হাজার টাকা দিয়েছি। আমার মতো অনেকেই তার পুকুরে পাট জাগ দিচ্ছেন।
গোচর গ্রামের পুকুর মালিক জিল্লু সরদার বলেন, এলাকায় অনেক দিন থেকে বৃষ্টি নেই। আগের একটু পানি ছিল, এতে এসে অনেকেই পাট জাগ দিতে চাচ্ছিলেন। আমি চিন্তা করে দেখলাম, আমার শ্যালো মেশিন আছে, এই মেশিন দিয়ে পুকুরে পানি দিয়ে প্রস্তুত করি। এরপর চাষিদের একটি শর্তে পাট জাত দিতে অনুমতি দিয়েছি।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, পাট চাষিরা পুকুর ভাড়া নিয়ে আবার কেউ কেউ বিঘা প্রতি পুকুরে পাট জাগ দিচ্ছেন। এতে চাষিদেও খরচ কিছুটা বেশি হচ্ছে। কোন উপায় নেই। আবাদ করলে একটু খরচ কষ্ট করতে হয়। এ উপজেলায় ৫ হাজার ২৪৮ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।
কৃ/স/জয়