কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 26, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ফরিদপুরে সবেদা চাষে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সবেদা ফলের বাণিজ্যিক চাষাবাদের পরিধি এখন ক্রমেই বেড়ে চরছে। রসালো, মিষ্টি ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলের দেশ ব্যাপী চাহিদা বাড়ায় কৃষকরা এই ফল চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। 

জানা যায়, সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে সবেদার চাষ হয়। কৃষকদের মতে, একটি পরিণত গাছ থেকে বছরে গড়ে ৪ থেকে ৫ বস্তা ফল পাওয়া যায়। এখানকার ঐতিহ্যবাহী সবেদা এখন আর শুধু বাড়ির আঙিনার ফল নয়। এটি পরিণত হয়েছে সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক ফসলে। এক সময় বাড়ির উঠান, পুকুরপাড় কিংবা জমির আইলে শখের বশে সবেদা গাছ লাগানো হলেও বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় চাহিদা বাড়ায় দ্রুত এই ফল চাষাবাদেও পরিধি বাড়ছে। 

এখানকার উৎপাদিত সবেদার ৮০ থেকে ৮২ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে পাইকাররা কিনে নেন। অনেক ব্যবসায়ী মৌসুম শুরুর আগেই গাছ বা পুরো বাগান চুক্তিভিত্তিক কিনে রাখেন।

সবেদার মৌসুম সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত। তবে জাত ও আবহাওয়ার ভিন্নতায় কিছু গাছে প্রায় সারা বছরই ফল ধরে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে সদরপুরের সবেদা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে একাধিক ফলের আড়ৎ, যা কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সবেদা চাষের অন্যতম সুবিধা হলো এতে সাধারণত কোনো রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। ফল পাকানোর জন্যও কৃত্রিম রাসায়নিকের প্রয়োজন পড়ে না। ফলে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ফল হিসেবে এটি ক্রেতাদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, সবেদায় ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও জিংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্য উপকারী হওয়ায় ফলটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হিসেবে পরিচিত। সবেদার ইংরেজি নাম ঝধঢ়ড়ফরষষধ এবং বৈজ্ঞানিক নাম গধহরষশধৎধ ুধঢ়ড়ঃধ। বহুবর্ষজীবী এই চিরসবুজ গাছ বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটিতে সহজেই বেড়ে ওঠে। রোপণের প্রায় দুই বছর পর থেকেই গাছে ফল আসতে শুরু করে।

সদরপুরের স্থানীয়দের দাবি, বিশেষ করে সদরপুরের আটরশি এলাকার সবেদা স্বাদ ও মিষ্টতায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আলাদা। এ কারণে অনেক সময় অন্য এলাকার সবেদাও আটরশির সবেদা নামে বাজারজাত করা হয়।

সদর ইউনিয়নের ফল ব্যবসায়ী খলিল বেপারী জানান, সবেদা উৎপাদনে কোনো রাসায়নিক কীটনাশক লাগে না। প্রতি ৮২ কেজির বস্তা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাইকারি বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন জেলায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে বাণিজ্যিক উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল বাশার চৌধুরী জানান, সবেদা এখানকার একটি ঐতিহ্যবাহী ফল। কোনো কীটনাশক ছাড়াই এর উৎপাদন সম্ভব। বাণিজ্যিকভাবে সবেদার বাগান গড়ে তুলতে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দেবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চরাঞ্চলে অর্গানিক কৃষির সূচনা করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

1

শ্রীলঙ্কার পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্ট

2

১৫ টাকা কেজিতে চাল পাবে স্বল্প আয়ের ৫৫ লাখ পরিবার

3

হাতিয়ায় ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন

4

সাংবাদিকদের দ্রুত অ্যাক্রিডিটেশন প্রদানের আহ্বান অনলাইন এডিট

5

দেশের উন্নয়নে বেশি অবদান রাখছেন কৃষিবিদরা

6

জেলের জালে ধরা এক মণের কাতলা

7

ডিম-মুরগি বিক্রি : সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের পাশাপাশি ন্যূনতম

8

তিন দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে বাকৃবিতে মানববন্ধন

9

অপুষ্টি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

10

ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ

11

সাপের কামড়ে ১৩ জন হাসপাতালে

12

তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই

13

ময়মনসিংহে মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী - মৎস্য

14

মূল্যস্ফিতি কিছুটা বেড়েছে

15

গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে মৌলভীবাজারের মানুষ

16

বাঁশের পণ্য বিশ্ববাজারে পাঠাতে চান হাজীমুল

17

প্রতি হেক্টরে ধান হবে ১৫ টন, গবেষণা করছে এসিআই

18

১৯ অঞ্চলে ঝড় বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

19

কাজিপুরে নদী ভাঙনে জমি বসত ভিটা বিলিন

20