কৃষি সময়
প্রকাশ : Nov 4, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষে বাম্পার ফলন

মৌলভীবাজার সংবাদদাতাঃ 
মালচিং পদ্ধতিতে আগাম টমেটো চাষাবাদ করে ব্যাপক সফলতা পাচ্ছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার চাষীরা। ইতোমধ্যে তাদের জমিরি টমেটো বিক্রি শুরু হয়েছে। বাজার ভাল থাকায় লাভবান হচ্ছেন তারা। চাষীরা বলছেন,মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করায় ফলন বেশি এবং রোগ বালাই আক্রমন কম হয়েছে। 

জানা যায়,চলতি বছর কমলগঞ্জ উপজেলায় ৭৫ হেক্টর জমিতে আগাম টমেটো চাষ হয়েছে। গত বছর ছিল ৬০ হেক্টর। এক বছরে আবাদ বেড়েছে ২৫ শতাংশ। বর্তমানে প্রায় ৪৯০ জন কৃষক গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বারি টমেটো-৮ ও মঙ্গলরাজা জাতের পাশাপাশি স্থানীয় কিছু জাতও চাষ হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার টমেটো খেতে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার আড়ালে থোকায় থোকায় ঝুলছে টমেটো। কোথাও গাছে কাঁচা টমেটো, কোথাও পাকতে শুরু করায় তাতে দেখা দিয়েছে লাল আভা। জমিতে সারি সারি শয্যায় বিছানো মালচিং পেপার। তার উপরে গাছে গাছে ঝুলছে টমেটো। 

কৃষকরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে অনেক কৃষক এরই মধ্যে বিনিয়োগের টাকা তুলে লাভের মুখ দেখছেন। মৌসুম শেষে প্রত্যাশিত আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষকদের এ আগ্রহের পেছনে রয়েছে মালচিং পদ্ধতির ব্যবহার ও আগাম ফসল বাজারজাত করার সুযোগ। এ পদ্ধতিতে চারা রোপণ করায় আগাছা নিয়ন্ত্রণ, মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা ও পরিচর্যা সহজ হয়।

এ উপজেলায় বর্তমানে প্রতি কেজি টমেটোর পাইকারি দর ৯০ থেকে ১০০ টাকা বলে জানান কৃষকরা।

কমলগঞ্জের আদমপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগ গ্রামের কৃষক সাদেক হোসেন জানান, ছয় বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন তিনি। এতে তার খরচ হয়েছে সাত লাখ টাকা। গত বছর তিন বিঘা জমিতে চাষ করে খরচ বাদে আট লাখ টাকা লাভ হয়েছিল। এবার ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার টমেটো বিক্রির আশা করছেন তিনি। কৃষক সাদেক হোসেন বলেন, গত বছর তিন বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করে খরচ বাদে আট লাখ টাকা লাভ হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার জমি বাড়িয়েছেন তিনি। তাছাড়া মালচিং পদ্ধতিতে পরিচর্যা সহজ এবং আগাম টমেটো বাজারে তুলতে পারায় ভালো দাম পাওয়া যায়।

একইভাবে আলীনগর ইউনিয়নের রানীবাজার গ্রামের মখলিস মিয়া, মাধবপুর ইউনিয়নের কোনাগাঁও গ্রামের করিম মিয়া এবং ধলই চা-বাগান এলাকার গোপাল রবিদাস ও কানাই রবিদাসও আগাম টমেটো চাষ করেছেন। এসব কৃষকের সম্মিলিত আবাদ প্রায় ২০ বিঘা জমিতে। তাদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে একই এলাকার আরও বেশ কয়েকজন কৃষক টমেটো চাষে যুক্ত হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, আগাম টমেটো চাষে কৃষক তুলনামূলক ভালো বাজারদর পাওয়ার সুযোগ পান। মালচিং পদ্ধতিতে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা যায় এবং আগাছার উপদ্রব কমে। ফলে গাছের গোড়া ও শিকড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হয়। গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে এ পদ্ধতি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

কৃ/স/জয়


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে চার দফা দাবি

1

ঈশ্বরদীতে ল্যাম্পি স্কিনে গরু মরার হিড়িক

2

রাজশাহীতে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

3

আগাম কপি চাষে লাভের আশা কৃষকদের

4

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩ হাজারের বেশি পানবরজ

5

শিকারীর হাত থেকে রক্ষা পেল অর্ধ শতাধিক ঘুঘু

6

আখচাষীদের ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

7

রাবার ড্যামের ছিদ্রে ঝুঁকিতে চাষাবাদ

8

মহিষ চড়াতে চাঁদা না দিলে লুট-নির্যাতন

9

চালুর আগেই সৌর সেচের যন্ত্রাংশ চুরি

10

পোলট্রি খামারিরা খাবার-ওষুধের দামে দিশাহারা

11

নোয়াখালীতে উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্ত

12

৩৩ কেজি বাঘাইড় বিক্রি হলো ৫৬ হাজারে

13

৮ লাখ টাকার নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

14

শেরপুরে ৬শ’ একর জমিতে জলাবদ্ধতা

15

কুড়িগ্রামের কৃষকরা আগাম ফুলকপি চাষে ব্যস্ত

16

গৌরনদীতে ময়লার ভাগাড়ে অতিষ্ট মানুষ

17

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বন্ধই কী সমাধান!

18

সালথায় পাটকল স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ

19

১৬ মাস ধরে বন্ধ আগুগঞ্জ সার কারখানা

20