নীলফামারী প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমারে নদীর পানির চাপে একটি পুরোনো স্লুইসগেট ধসে পড়েছে। এতে উপজেলার কয়েক শ বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ার আশঙ্কায় দেখা দিয়েছে। হটাৎ এই নদীভাঙন ও পানিসংকটে তিন শতাধিক পরিবারের জীবনযাত্রা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে।
রোববার দুপুরে উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব হলহলিয়া গ্রামে হরিডারা নদীর ওপর নির্মিত স্লুইসগেটটি ধসে পড়ে। ভাঙনে স্লুইসগেট-সংলগ্ন এলাকার প্রয়াত আবু সাঈদের স্ত্রী হালিমা বেগমের বসতবাড়ির একাংশ নদীতে তলিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকেই স্লুইসগেটটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে দেবে যেতে থাকে। একপর্যায়ে এটি বসে গিয়ে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে উজান থেকে আসা পানির চাপ মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে স্লুইসগেট ও প্রতিরক্ষা বাঁধের পাশে থাকা ইঁদুরের গর্ত দিয়ে তীব্র বেগে পানি ঢ়ুকতে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভয়াবহ ভাঙনে রূপ নিয়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়।
খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারি প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সামনে আমন আবাদের সময়। এই স্লুইসগেট দিয়েই আমরা সেচের পানি আটকে রাখতাম, আবার অতিরিক্ত পানি বের করে দিতাম। এখন তো গেটই ভেঙে শেষ। পানি আটকে রাখার ব্যবস্থা না থাকলে কয়েক শ বিঘা জমি একেবারে অনাবাদি পড়ে থাকবে।’
ডোমার উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম বলেন, ‘ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশের কারণেই প্রাথমিকভাবে এ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে নতুন ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।’
কৃ/স/জয়