মাদারীপুর সংবাদদাতাঃ
মাদারীপুরে নিষিদ্ধ রিং, চায়না দুয়ারি এবং কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারের ফলে ধ্বংস হচ্ছে দেশি মাছের বংশ। শুধু মছই নয়। এসব জালে ব্যাঙ ও পোকামাকড়সহ নানা জলজ প্রাণি আটকা পড়ায় হুমকির মুখে পড়েছে পুরো জীববৈচিত্র্য।
মাদারীপুরের বিভিন্ন উপজেলার নদী, খাল ও বিলে বর্যা মৌসুমে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল পেতে নির্বিচারে মাছ শিকার করা হচ্ছে। ৩০ থেকে ৮০ ফুট লম্বা চায়না দুয়ারি জালের লোহার রিংয়ের কাঠামোর চারপাশে অতি সুক্ষ্ন জালের ফাঁদ তৈরি করা হয়। এই জালে বড় মাছের পাশাপাশি ছোট পোনা, ডিমওয়ালা মা-মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীও নির্বিচারে আটকা পড়ছে। জেলার সবর্ত্র এই জালের ব্যবহার বেড়েছে এখন। বিভিন্ন জলাশয়ের দিকে তাকালেই এই জালের দেখা মিলছে। এই সর্বনাশা জালের ব্যবহারে মাছ সহ জলজ জীব বৈচিত্র্য এখন ধ্বংস হতে চলেছে।
১৯৫০ সালের মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ‘চায়না দুয়ারি’ জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করে বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে এসব জাল বিক্রি ও ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে জাল জব্দ করে, তবে নিয়মিত নজরদারির অভাবে এর ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
কিছুদিন আগেও এ জেলায় বর্ষার নতুন পানি আসার পর নদী, খাল ও বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসব মাছের অনেক প্রজাতিই বিলুপ্তির পথে। বাজারেও দেশীয় মাছের সেই প্রাচুর্য আর নেই।
স্থানীয়রা বলছেন,জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মৎস্য কার্যালয় থাকলেও নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে তাদের কার্যকর তদারকি চোখে পড়ে না। নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়ালে এসব জালের ব্যবহার অনেকাংশেই রোধ করা সম্ভব।
স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ জালের দৌরাত্ম্যের কারণে বাজারে দেশীয় মাছ পাওয়া যায় না বললেই চলে। এখনই যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে দেশীয় অনেক প্রজাতির মাছ চিরতরে হারিয়ে যাবে।
শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ সুরক্ষায় সারা বছরই চায়না দুয়ারি জালসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
কৃ/স/জয়