ডিএইতে সুরাহা না পেয়ে কৃষি সচিব বরাবর আবেদন
কৃষি সময় প্রতিবেদক
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) একটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের (পিডি)
বিরুদ্ধে এক নারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী কর্মকর্তার
স্বামী দাবি করেছেন, তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর কথোপকথন, ছবি ও ভিডিওর ডিজিটাল
প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। এর মধ্যে কিছু ভিডিও দাপ্তরিক সময়ে প্রকল্প পরিচালকের কক্ষ
ও সরকারি গাড়িতে ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের
কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ওই নারী কর্মকর্তার স্বামী। এর আগে গত ২৬ জুলাই কৃষি সম্প্রসারণ
অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছেও তিনি একই বিষয়ে তদন্তের আবেদন করেছিলেন বলে জানিয়েছেন।
তবে সেখান থেকে কোনো সুরাহা পাননি বলে তার অভিযোগ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দেওয়া আবেদনে জনৈক ওই ব্যক্তি বলেন, তার স্ত্রী
বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের ৩৬তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি বর্তমানে একটি প্রকল্পে সংযুক্ত
কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। ওই প্রকল্পের পিডি বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের ২৯ তম ব্যাচের
কর্মকর্তা। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে তার স্ত্রীর আচরণে পরিবর্তন
লক্ষ্য করেন তিনি। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে ব্যক্তিগত
ও আপত্তিকর কথোপকথন, ছবি ও ভিডিও দেখতে পান বলে দাবি করেন। এসব উপকরণের ভিত্তিতে বিষয়টি
তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগকারীর কাছে থাকা কিছু ভিডিও পর্যালোচনায় সেগুলো অফিস
চলাকালীন প্রকল্প পরিচালকের কক্ষ এবং সরকারি দাপ্তরিক পরিবহনে ধারণ করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান
হয়। এ ছাড়া প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট নারী কর্মকর্তার মধ্যে নিয়মিত ব্যক্তিগত যোগাযোগ
এবং অফিসের বাইরে বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে সময় কাটানোর ইঙ্গিতবাহী তথ্য থাকার দাবিও
করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রকল্প পরিচালকের সরকারি গাড়ির চালকের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়টিও
তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
ওই নারী কর্মকর্তার স্বামীর বলছেন, তার কাছে ছবি, ভিডিও, কথোপকথন ও মেসেজসহ অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট
বিভিন্ন ডিজিটাল উপকরণ সংরক্ষিত রয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্তের স্বার্থে
এসব প্রমাণ তদন্ত কমিটি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করতে তিনি প্রস্তুত।
তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি
নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের
বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির বিধিমালা, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ও বিভাগীয় নীতিমালা
অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।
তবে, এ বিষয়ে ‘জ’ আদ্যক্ষরের অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালকের দাবি, সবই ষড়যন্ত্র।
ওই নারী কর্মকর্তার সঙ্গে এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।