কুড়িগ্রাম সংবাদদাতাঃ
কুড়িগ্রামে প্রচন্ড খরতাপে পুড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন মাঠের আমন ধানের খেত। ইতোমধ্যে ধানগাছের পাতা পোড়া রং ধারন করেছে। কোথাও শুকিয়ে যাচ্ছে পুরো গাছ। আবার কোনো কোনো জমির একাংশের ধানগাছ মরে যাচ্ছে। এতে আমনের ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
কুড়িগ্রামের সদর,রাজারহাট, উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে আমন ধানের জমিতে এমন চিত্র দেখা গেছে। কৃষকরা বলছেন,বৃষ্টি না থাকা এবং তাপমাত্রা বেশি থাকায় এমনি হতে পারে। প্রথম দিকে জমিতে ধানগাছ ভালো থাকলেও হঠাৎ পাতা শুকিয়ে যেতে শুরু করে। পরে ধীরে ধীরে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক চেষ্টা করেও গাছ রক্ষা করতে পারছেন না তারা। মাঠে মাঠে সবুজ ধানখেত এখন মরে লাল হয়ে যাচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সমস্যার শুরুতে তারা কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাননি। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত দেখা না পাওয়ায় অনেকেই বুঝতে পারেননি। তাদের মতে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সময়মতো কৃষি পরামর্শ পেলে সার প্রয়োগ, সেচসহ পরিচর্যার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া যেত। এতে ক্ষতির পরিমাণও কমানো সম্ভব হতো।
রাজারহাট উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের কৃষক শাহা আলম বলেন, জমিতে ধান ভালোই ছিল। হঠাৎ করে পাতা শুকিয়ে যেতে শুরু করে। এখন মনে হচ্ছে, ফলন অনেক কমে যাবে।
একই এলাকার কৃষক নুর আলম বলেন, আমার এক বিঘা জমির ধান প্রায় শেষ হয়ে গেছে। কী কারণে এমন হচ্ছে, বুঝতে পারছি না। অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু ধানগাছ বাঁচাতে পারিনি।
কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়া এবং খরার মধ্যে জমিতে অতিরিক্ত ইউরিয়া সার প্রয়োগের কারণে অনেক ক্ষেত্রে ধানগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি কিছু জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণও রয়েছে।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার আহমেদ বলেন, খরার সময় অনেক কৃষক অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার করেছেন। এতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পোকামাকড়ের আক্রমণও রয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কুড়িগ্রাম জেলায় ১ লাখ ২১ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। তবে এর মধ্যে কত হেক্টর জমির ধান খরা, অতিরিক্ত সার প্রয়োগ কিংবা পোকামাকড়ের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব দিতে পারেনি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
কৃ/স/জয়