কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 8, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চাঁদপুরে বিলুপ্ত বিরল মাছের অনন্য সংগ্রহশালা

চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে চাঁদপুরে পড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী এক মাছের সংগ্রহশালা। যেখানে রয়েছে বিলুপ্তপ্রায়, দুর্লভ ও গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নানা প্রজাতির মাছ। এখানে ইলিশ সহ তিন শতাধিক মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যা নতুন প্রজন্মকে দেশের মৎস্যসম্পদ সম্পকে জানার সুযোগ তৈরি কওে দিচ্ছে। 

জানা যায়, চাঁদপুর শহরের ওয়ারলেস এলাকায় ১৯৬২ সালে প্রথমবারের মতো এই ফিশ মিউজিয়াম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় মৎস্য বিভাগের পরিচালক মো. ইউসুফ আলী এবং কর্মকর্তা এ কে আতাউর রহমান দেশের বিভিন্ন নদনদী ও জলাশয় থেকে নানা প্রজাতির মাছ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ শুরু করেন। পরে সেই সংগ্রহ আরও সমৃদ্ধ হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ফিশ মিউজিয়ামে রূপ নেয়।

এই সংগ্রহশালাকে আধুনিক রূপ দিতে ২০২৩ সালে নতুন করে মিউজিয়ামটির সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ করা হয়। বর্তমানে এখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে ৩২৫টি বড় ও ছোট জার। প্রতিটি জারে কেমিক্যালের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজপ্রাণী।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদীকেন্দ্রের ইলিশ ভবনের নিচতলায় গড়ে তোলা হয়েছে এই ফিশ মিউজিয়াম। দর্শনার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত না হলেও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মৎস্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত এখানে এসে মাছের বিভিন্ন প্রজাতি সম্পর্কে জানছেন এবং গবেষণামূলক তথ্য সংগ্রহ করছেন।

ইলিশের শহর চাঁদপুরে গড়ে ওঠা এই অনন্য মিউজিয়াম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদের ইতিহাস ও বৈচিত্র্য তুলে ধরছে নীরবে। এই ফিশ মিউজিয়াম শুধু একটি সংগ্রহশালা নয়; বরং দেশের নদী ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
মিউজিয়ামে সংরক্ষিত মাছগুলোর মধ্যে রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় মহাশোল, বিরল প্রজাতির জইয়া মাছ, রানী মাছ, গারুয়া, তারা বাইম, মধু পাবদাসহ অসংখ্য দেশীয় প্রজাতির মাছ। এ ছাড়া সমুদ্রের হাঙর মাছ, ঝিনুক, বামশ মাছ, ইলিশ এবং বিভিন্ন মাছের ডিমও সংরক্ষণ করা হয়েছে বিশেষ পদ্ধতিতে।

এ বিষয়ে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. তায়েফা আহমেদ জানালেন, বর্তমানে ফিশ মিউজিয়ামে ছোট-বড় মিলিয়ে ৩২৫টি জারে বিভিন্ন মাছ সংরক্ষিত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে যারা ফিশারিজ বিষয়ে পড়াশোনা করছেন, তারা নিয়মিত এখানে আসেন। বাস্তবে মাছের বিভিন্ন প্রজাতি দেখে শিক্ষার্থীরা অনেক কিছু জানতে পারছেন এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংসদের সম্মতি থাকলে পুরাতন ডিলার বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ: প্রধান

1

খুলনায় খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

2

হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির বাসা

3

চরাঞ্চলে ৫০০০ তালবীজ বিতরণ

4

মালচিং প্রযুক্তিতে সবজি উৎপাদনে বিপ্লব

5

চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

6

সরকারি হচ্ছে কাজিপুরে আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল কলেজ

7

নার্সারির গ্রাম বাসুদেবপুর

8

কাপ্তাই হ্রদে ৭ দিনে ২২৪ টন মাছ আহরণ

9

কচুরিপানায় হুমকিতে নদীর প্রাণ ও মৎস্যসম্পদ

10

সংরক্ষিত বনভূমির জমিতে খামার-বাগান

11

কুমার নদ এখন বর্জ্যরে ভাগাড়

12

কাজিপুরে বেকার মহিলাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কুটির শিল্প কর

13

৬৫ কচ্ছপ সালদা নদীতে অবমুক্ত

14

মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ

15

নরসিংদীর কাকরোল চাহিদা মেটাচ্ছে সারা দেশে

16

রংপুরে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে বিক্ষোভে কৃষক

17

চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস

18

আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে চীন

19

পাট চাষে ফিরছে সুদিন

20