কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 16, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

খাল দখলে বন্ধ ধান চাষাবাদ

বগুড়া সংবাদদাতাঃ 
বগুড়ার শেরপুরে সরকারি খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় কয়েকটি গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে এসব এলাকায় হাজার বিঘা জমিতে আমন আউশ ধান চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। র্দীঘদিন ধরে স্থানীয়রা জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহালেও তা সমাধানে নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ। 

জানা যায়, উপজেলার শেরুয়া বটতলা থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার সড়কের উভয় পাশে থাকা ‘নয়নজালি’ নামের সরকারি খালের বিভিন্ন অংশ দখল করে মিল-কারখানা, চালকল, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ফলে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে বর্ষা মৌসুমে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। বছরের দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকছে মির্জাপুর ও শাহ বন্দেগী ইউনিয়নের ৬-৭টি গ্রামের ফসলি জমি ও চলাচলের রাস্তা। এমন অবস্থায় এক দশক ধরে এসব গ্রামের মানুষ নিত্য দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল সহ হাজার বিঘা জমিতে ধান চাষাবাদ করতে পারছে না।

শুধু কৃষিকাজ নয়, জলাবদ্ধতার কারণে জনজীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে শতাধিক চলাচলের রাস্তা পানিতে প্লাবিত থাকে। শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি জলাবদ্ধ একটি জমিতে পড়ে দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে গবাদিপশু পালনেও বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। চারণভূমি পানিতে তলিয়ে থাকায় গরু-ছাগলসহ গৃহপালিত পশু ২৪ ঘণ্টা গোয়ালে বেঁধে রাখতে হচ্ছে। এ কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে তাদের গবাদিপশু বিক্রি করে দিচ্ছেন।

দড়িমুকন্দ, ফুলতলাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আগে এসব এলাকায় তিন ফসলি জমি ছিল। জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে জমিতে আউশ ও আমন ধান চাষ করা যাচ্ছে না। এতে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর আয় কমে গেছে। একসময় যেসব কৃষকের গোলায় ৪-৫০০ মণ ধান থাকত, তাদের অনেকেই এখন সংসার চালাতে দিনমজুরি করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মন্টু মিয়া বলেন, আমাদের এখানে ছয়টি গ্রাম একেবারে জলাবদ্ধ হয়ে আছে। রাস্তার পশ্চিম পাশে নয়নজালি দখল করে কলকারখানা ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
দড়িমুকন্দ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাসেদ বলেন, আমাদের বাসার মধ্যে পানি উঠে আছে। নিজেদের যাতায়াতের পাশাপাশি অসুস্থ রোগীদের চলাচলেও চরম সমস্যা হয়। বেশ কয়েকবার অভিযোগ দিয়েও এর সমাধান হয়নি। জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের এলাকায় কেউ আত্মীয়তার সম্পর্ক করতেও চায় না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, কোনো সরকারি খাল বা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে এমন কিছু দখল করার সুযোগ নেই। আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে শিগগিরই যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভবদহে জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

1

বজ্রপাত রোধে ২৩০০ তালগাছ রোপণের উদ্যোগ

2

পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে হাজার বিঘা ফসলি জমি

3

শাপলা ফুলে জীবিকা নির্বাহ

4

আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

5

দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা

6

অসময়ে মাচায় ঝুলছে তরমুজ

7

কুড়িগ্রামে পাটের বীজ উৎপাদন বাড়ছে

8

সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে কাউনের বাম্পার ফলন

9

কাপাসিয়ায় দখলে দুষনে মৃত খাল

10

১৪ লাখ কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফ

11

তালগাছ লাগানোই তার নেশা

12

এক কাঁঠালের দাম ১০ হাজার টাকা

13

টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে শিক্ষার্থীদের চারা বিতরণ

14

খালের নেটপাটা অপসরন করলো স্থানীয়রা

15

কচুয়ায় ১২০টি চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

16

বস্তায় আদা চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

17

জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা উপকূলের হাজারো পরিবারে আয় বাড়িয়েছে এফএও

18

খাদ্য উৎপাদকদের ৫৩ দশমিক ৬৫ শতাংশই ক্ষুদ্র কৃষক

19

শ্রীপুর থানার সামনে গরু চুরি বন্ধের দাবিতে গ্রামবাসীর বিক্ষো

20