শেরপুর সংবাদদাতাঃ
শেরপুর জেলার চাষীরা বছরজুড়ে এখন নানা ধরনের সবজি চাষাবাদ করছেন। ফসল চাষাবাদের চেয়ে সবজিতে বেশি লাভ হওয়ায় দ্রুত বাড়ছে এর পরিধি। এখনকার সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে সারা দেশে। চলতি খরিপ-২ মৌসুমে জেলায় উৎপাদিত সবজির বাজারমূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। যা এখনাকার গ্রামীণ অর্থনীতিকে করেছে সমৃদ্ধ,গতিশীল।
জানা যায়,চলতি খরিপ-২ মৌসুমে জেলার পাঁচ উপজেলায় ৩ হাজার ৬৯৪ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। আর এসব জমিতে প্রায় ৬২ হাজার ৭৯৮ মেট্রিকটন সবজি উৎপাদিত হয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ২৫১ কোটি টাকা। এই চাষাবাদের সাথে প্রায় লক্ষাধিক পরিবার জড়িত। ফসল চাষাবাদের বাইরে তারা সবজি চাষাবাদ করছেন। এর মাধ্যমে তারা নগদ টাকা আয় করছেন।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠে মাঠে এখন ফসলের পাশে দেখা যায় সবজি চাষাবাদ। কৃষকরা বলছেন,ফসল চাষাবাদে তারা তেমন লাভ না করতে পারলেও সবজিতে ভাল লাভ করতে পারেন। সবজি বিক্রি করে নগদ টাকা হাতে আসে। যা তাদের চাষাবাদ সহ পরিবারের বিভিন্ন কাজে লাগে।
শেরপুর সদরের কুসুমহাটির গ্রামের কৃষক হাশেম আলী জানান,২৫ শতাংশ জমিতে পেঁপে আবাদ করে লাভবান হওয়ায় এখন বেগুন, টমেটো, বরবটি, মরিচসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন। একইসঙ্গে করলা, ঝিঙা ও লাউয়ের আবাদ করেছি। ৭০ টাকা কেজি পাইকারি বিক্রি করেছি করলা। আর এখন এক বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে ডিজি ১৭১৭ জাতের মরিচ চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও খুব ভালো হয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার সবজি গ্রাম খ্যাত গোমড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদির মিয়া বলেন, আমাদের এখানে প্রায় শতাধিক কৃষক সবজি আবাদ করে। পাহাড়ি ঢলে কিছুটা ক্ষতি হলেও এবার সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। আর বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকরাও লাভবান হয়েছে।
শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার করলা আবাদ করেছিলাম। পাশাপাশি বরবরটি। করলা ৮০ টাকা কেজিও বিক্রি করেছি। আমি সবজি চাষে বেশ লাভবান হয়েছি।
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, ঝিনাইগাতীর মাটি কৃষির জন্য বেশ উপযুক্ত। তাই এখানে একটা গ্রাম রয়েছে, যার নাম সবজি গ্রাম। এ গ্রামে প্রচুর সবজি উৎপাদিত হয়। এ উপজেলায় একেক মৌসুমে ন্যূনতম ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার সবজি আবাদ হয়।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু বলেন, এখানে উৎপাদিত সবজি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে। এতে কৃষকদের উৎপাদিত সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আর কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত পরামর্শ সেবা।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান,সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে দেশের বড় বড় সবজির আড়তদারদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করব। যেন তারা কৃষকের খেত থেকে সরাসরি সবজি কিনতে পারে। আর ২৫০ কোটি টাকা এক মৌসুমেই বিক্রি করাটা দারুণ একটা ব্যাপার। যা স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে ভালো প্রভাব ফেলবে। প্রান্তিক কৃষকদের জেলা কৃষি বিভাগের মাধ্যমে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
কৃ/স/জয়