হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের চুরুনাঘাটের চা বাগানগুলোতে উৎপাদন বেড়েছে। মৌসুমের প্রথম চার মাসেই ২৪টি চা বাগানের উৎপাদন বেড়েছে ৩১ শতাংশ। তবে চায়ের দাম না বাড়ায় লোকশানের আশঙ্কা কাটেনি বাগান মালিকদের।
জানা যায়, এখানকার ২৪টি চা বাগানে ২০২৩ সালে চা উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ২৬ লাখ ৯১ হাজার কেজি। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১ কোটি ২০ লাখ ১৯ হাজার কেজিতে। আর ২০২৫ সালে উৎপাদন আরও নেমে আসে ১ কোটি ২ লাখ ৭১ হাজার কেজিতে। অর্থাৎ দুই বছরে উৎপাদন কমে প্রায় ২৪ লাখ কেজি। তবে চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ।
চলতি মৌসুমে এখানকার প্রায় সব বাগানেই বেড়েছে উৎপাদন। এর মধ্যে নোয়াপাড়া চা-বাগানে উৎপাদন বেড়েছে ১২৭ দশমিক ৮৩, লালচাঁদ চা-বাগানে ৯৫ দশমিক ৭১, মধুপুরে ৮২ দশমিক ২৫, তেলিয়াপাড়ায় ৬০, বৃন্দাবনে ৫০, দেউন্দি চা-বাগানে ৪১ দশমিক ৫৯ এবং জগদীশপুর চা-বাগানে ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় কোনো বাগানেই উৎপাদন কমেনি।
দেউন্দি চা-বাগানের মহাব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিনের বক্তব্য, ‘অর্থনৈতিক সংকট কিছুটা কাটিয়ে ওঠায় এবং শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় থাকায় উৎপাদন বেড়েছে। তবে চা-শিল্পকে শিল্প খাত নয়, কৃষি খাত হিসেবে বিবেচনা করে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া হলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং শিল্পটি আরও টেকসই হবে।’
লস্করপুর ভ্যালির সভাপতি ও চণ্ডীছড়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিমুর রহমান সেলিম জানিয়েছেন, অনুকূল আবহাওয়া, শ্রমিকদের সহযোগিতা এবং রোগবালাই কম থাকায় এবার উৎপাদন বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছর ভ্যালিতে ১ কোটি ১০ লাখ কেজির বেশি চা উৎপাদনের আশা করছেন তারা।
কৃ/স/জয়