কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ অতি বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢলে পেঁপে গাছ মরে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতির সন্মুখিন হয়েছেন নুরুল আবছার বাদশা নামে এক চাষী। তার নাম কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার মৌলভীরচর এলাকা। এমন ক্ষতিতে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
জানা যায়,চার একর জমির পেঁপে গাছের বাগান করেছিলেন চাষী বাদশা। তার বাগানের ১৬শ’ গাছের প্রতিটিতে আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ঝুলে আছে কাঁচা-পাকা পেঁপে। পুরো খেতজুড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুল আর পেঁপেতে ঠাসা। এমন বাম্পার ফলনে মোটা অংকের টাকা লাভের আশা করেছিলেন তিনি। তার সেই আশায় ছাই ঢেলে দিয়েছে টানা ভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢল। এতে বাদশার বাগানে সব পেঁপে গাছের গোড়ায় পানি জমে গাছ মরে যায়। কীভাবে এই ক্ষতি পোষাবেন, কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বাদশার।
শুধু এই চাষীই নয়। কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যায় সব পেঁপেচাষি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ধার-কর্য আর জমি বর্গা ও সার-বিষ কিনতে হয়েছে এসব চাষীদের। সরকারি প্রণোদনা না পেলে তাদের ঘুরে দাঁড়ানো কোন ভঅবেই সম্ভব নয় বলছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
নুরুল আবছার বাদশা জানান,সবগুলো গাছে ভালো ফলন এসেছে। বিক্রি উপযোগী হয়েছে। আড়তদারের সঙ্গে দরদামও ঠিকঠাক হয়েছে। কিন্তু অতি বৃষ্টিতে আমার সব শেষ হয়ে গেল। নতুন লাগানো আরো ১৩শ’পেঁপে চারাও মারা গেছে। ৮শ’করাগাছ ভেঙ্গে গেছে। এছাড়াও তিত করলা,বরবটি,শষা চাষ করেছি। সেগুলো মাত্র তোলা শুরু করেছি। বৃষ্টির পানিতে সেগুলোও শেষ। আমার প্রায় ২০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি আমি কিভাবে পুষিয়ে নিবো।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় ১৩৮৫৩জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪ হাজার ১০৩ একর জমির আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও সবজি খেতে ক্ষতি হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেছেন, ‘বন্যায় চকরিয়ায় কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পেঁপে ছাড়াও আমন, আউশ ও সবজির ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও সহযোগিতার আশ^াস দেন-এই কর্মকর্তা।
কৃ/স/জয়