সৈয়দপুর প্রতিনিধিঃ উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ শুটকির পাইকারী মোকাম নীলফামারীর সৈয়দপুরে ব্যবসায়ীরা এখন নানা সংকটে ধুকছেন। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বক্রি হলেও দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ এই মোকামে একটি হিমাগার না থাকায় তারা রয়েছেন সবচেয়ে বড় সমস্যায়।
জানা যায়, ১৯৮০ সালে সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু হয় শুঁটকি আড়তের। সময়ের সঙ্গে এটি উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শুঁটকি মোকামে পরিণত হয়। খুলনা, বরিশাল, বরগুনা, সাতক্ষীরা, কক্সবাজার, পাবনা, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে পুঁটি, চিংড়ি, লইট্টা, চ্যাপা, বোয়াল, কাচকিসহ ৬০ থেকে ৭০ প্রজাতির শুঁটকি আসে।
মেকামে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি আড়তে বস্তাভর্তি বিভিন্ন প্রজাতির শুঁটকি সাজানো রয়েছে। কোথাও চলছে দরদাম, কোথাও শ্রমিকেরা ব্যস্ত শুঁটকি বস্তাবন্দী ও সেলাইয়ের কাজে। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারি ক্রেতাদের উপস্থিতিতে জমে ওঠে হাট।
এই শুটকি মোকামের ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহের এই দুদিনের হাটেই প্রায় ৫০ কোটি টাকার শুঁটকি কেনাবেচা হয়। অন্য দিনগুলোতে নিয়মিত খুচরা বিক্রি চলে। বর্তমানে দেশি শুঁটকির সরবরাহ তুলনামূলক ভালো থাকায় দাম কিছুটা কমেছে এবং ক্রেতার উপস্থিতিও বেড়েছে।
শুটকি ব্যবসায়ীদের দাবী,এক সময় সৈয়দপুর থেকে বছরে প্রায় দুই হাজার ৪০০ টন পুঁটি শুঁটকি ভারতে রপ্তানি হতো। এখন সেই রপ্তানি প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। চলতি মৌসুমে জুন পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৪০০ টন।
সৈয়দপুরে শুটকি সংরক্ষণের হিমাগার না থাকায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও জামালপুরে পাঠাতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়, লাভ কমে আসে। দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে গিয়ে অনেক সময় শুঁটকি নষ্টও হয়ে যায়। এমনটাই বলছিলেন এখানকার ব্যবসায়ী আক্তারুজ্জামান।
আরেক ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া বলেন, চলনবিল থেকে সবচেয়ে বেশি পুঁটি শুঁটকি আসে। এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় উৎপাদনও কমেছে। হিমাগার না থাকায় প্রয়োজনমতো শুঁটকি মজুত করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিভিন্ন দেশে শুটকি রপ্তানী করা এই মোকামের ব্যবসায়ীরা জানান,ব্যাংক থেকে লোন পেতেও নানা সমস্য রয়েছে।
শুটকি রপ্তানিকারক আলাল উদ্দিন বলেন, রপ্তানির আশায় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু রপ্তানি কমে যাওয়ায় এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সৈয়দপুর শুঁটকি মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বাছের আলী বাখার বলেন, বন্দরে ১৩টি পাইকারি আড়ত ও ৭৪টি খুচরা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মাসে প্রায় ১২০ কোটি টাকার শুঁটকি কেনাবেচা হয়। প্রায় এক হাজার শ্রমিক এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রপ্তানি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক চাপে পড়েছেন।
আর সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, একটি হিমাগার নির্মাণ এবং ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানো গেলে ব্যবসা অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। একই সঙ্গে রপ্তানি বাড়াতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, সরকারি উদ্যোগে এখনও সৈয়দপুরে কোনো হিমাগার নির্মাণ হয়নি। তবে ব্যক্তি উদ্যোগে কেউ হিমাগার স্থাপন করতে চাইলে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্যভিত্তিক একটি হিমাগার নির্মাণের প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
কৃ/স/জয়