কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 22, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ইলিশের আকাল খুঁজতে মাঠে বিশেষজ্ঞ দল

চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ ইলিশের অভযারণ্য হিসাবে পরিচিত চাঁদপুরে নদী-সাগরে এবার ইলিশ মিলছে না। এতে বেকার হয়ে পড়েছে স্থানীয় জেলে,আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা। ভরা মৌসুমে এই জেলায় ইলিশের আকালের কারনে খুঁজতে মাঠে নেমেছে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি দল। ইতোমধ্যে তারা চাঁদপুর জেলায় কাজ শুরু করেছেন। 

জানা যায়, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার মেঘনা নদীজুড়ে জুলাই মাস এলেই দেখা মিলত প্রচুর ইলিশের। উৎসব। নদীতে মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠতো শত শত মাছ ধরার নৌকা। আড়তে ইলিশের কেনাবেচায় মুখর সারাদিন। সেই চিরচেনা দৃশ্য আর দেখা নেই এবার। ইলিশের ভরা মৌসুমেও মেঘনা নদী ও সাগরে মাছের দেখা না পাওয়ায় জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা হতাশ। এখানকার আড়তগুলো মাছের অভাবে নেমে এসছে নীরবতা। 

২০ জুলাই চাঁদপুরে মাঠ পর্যায়ে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার বিসয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে ৫ সদস্যর একটি দল। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)-এর বিশেষজ্ঞরা প্রথমে জেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা এখানকার জেলের সংখ্যা, সরকারি সহায়তা, বিকল্প কর্মসংস্থান, প্রণোদনা এবং ইলিশ উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।

মতলবের আমিরাবাদ আড়তের মাছ ব্যবসায়ী মো. সাঈদ হোসেন বলেন, সকাল থেকে আড়তে বসে আছি, কিন্তু ইলিশ নেই বললেই চলে। জেলেরা মাছ পাচ্ছেন না, তাই বাজারও জমছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আড়ত ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে অভিযান হলেও অন্য কিছু কারণেও মাছের স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এসব বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।

ইলিশ গবেষক আনিসুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, আগের তুলনায় ইলিশের সরবরাহ কম এবং বড় ইলিশের সংখ্যাও কম। তবে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। নদীর পানির গুণগত মান, স্রোত, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও মাছের চলাচলের পথসহ বিভিন্ন বিষয় বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। সব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা শেষে মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে একটি সুপারিশভিত্তিক প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, ‘সরকারের জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমরা নিয়মিত অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। পাশাপাশি জেলেদের খাদ্যসহায়তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। ইলিশ উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে বিশেষজ্ঞ দল মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ পুনর্গঠন

1

শস্য ভান্ডারে যুক্ত হলো দু’টি হাইব্রিডসহ ছয় নতুন ধানের জাত

2

গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে মৌলভীবাজারের মানুষ

3

বিশ্বে সম্পদ ও আয়ের বড় বৈষম্য কোথায়, বাংলাদেশে চিত্র কেমন1

4

প্লানিং কমিশনের সদস্যের বক্তব্য অবাক হয়ে শুনলেন সবাই ।। ড. ক

5

বায়ু দুষণঃ মারা যায় ৮৮ হাজার মানুষ

6

সারাদেশে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

7

বৈজ্ঞানিকভাবে মাছ চাষ খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি

8

জিংকসমৃদ্ধ বিনাধান–২০ চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচন

9

কৃষির উন্নয়ন হলে দেশের উন্নয়ন হবে : মন্ত্রী

10

ভারতের সঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে

11

স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রি করে গড়েছিলেন বাগান

12

এক গাছেই ধরেছে ১০ জাতের আম

13

হাসের বাচ্চা ফুটিয়ে চলে তাদের সংসার

14

বিএমডিএ’র চেয়ারম্যান নিয়োগ পেলেন কৃষক দল সভাপতি তুহিন

15

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর : কী মধু প্রশাসন শাখায়?

16

দিনাজপুরে এক হাটে প্রতিদিন কোটি টাকার আম বিক্রি

17

বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে কঠোর অভিযান চলবে

18

কৃষি সচিব হিসেবে যোগদান করেছেন রফিকুল ই মোহামেদ

19

১০ হাজার কোটি টাকার নতুন কৃষিঋণ তহবিল

20