কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 25, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চলনবিলের বির্স্তীর্ণ জলাভূমি কচুরিপানার দখলে

নাটোর সংবাদদাতাঃ 
চলনবিলের নাটোর জেলার গুরুদাসপুর,সিংড়াসহ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে হাজার হাজার হেক্টর জমি এখন কচুরিপানার দখলে। এতে নৌ চলাচল ও জলপথের বানিজ্য প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। বর্ষায় বিস্তৃত এই বিলাঞ্চলের জলাভূমি এখন কচুরিপানার নিচে আবদ্ধ। ফলে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও পর্যটকরা। 

সরেজমিন দেখা গেছে, চলনবিলের প্রাণকেন্দ্র গুরুদাসপুরের খুবজীপুর ইউনিয়নের বিলশা ‘মা জননী সেত’ু এলাকা, বামনবাড়িয়া, পিপলা, শ্রীপুর, বিলহরিবাড়ি, যোগেন্দ্রনগর, মশিন্দা, মহাসড়কের ১০নং ব্রীজ এলাকা। সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া, ইতালী, চৌগ্রাম, কলম, তাজপুর ও শেরকোল ইউনিয়নসহ অন্তত ৩০টি গ্রামের বিলে কচুরিপানার আগ্রাসন চলছে। পার্শ্বর্বর্তী তাড়াশ, ভাঙ্গুড়া, হান্ডিয়াল উপজেলার বিভিন্ন বিলেরও একই অবস্থা। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পর এবার কচুরিপানার আগ্রাসনে নতুন করে বিলপাড়ের প্রায় ৩০ হাজার কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিলসা বিলের প্রায় ৭০০ হেক্টর জমি এখন কচুরিপানার নিচে। বিলে দেখা মিলছে না দেশীয় মাছের।

এমন অবস্থায় ভরা বর্ষায় কচুরিপানার আগ্রাসনে চলনবিলের সুস্বাদু মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে মাছ সংকটসহ কৃষকের জমির আমন ধান, আগাম সরিষা, গম ও ইরি-বোরো চাষাবাদ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। বিলের প্রধান নৌ পথগুলোতে কচুরিপানার জটে স্বাভাবিক নৌ যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দিনমজুর ও নৌকার মাঝিরা। 

কচুরিপানার এই আধিপত্য নিয়ে চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটির গুরুদাসপুর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আক্কাছ বলেন, ‘এই বিল দেশের অন্যতম খাদ্যশস্য ভাণ্ডার। বিলের জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হলে খাদ্য সরবরাহে চাপ পড়বে। কচুরিপানার কারণে জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে।’

বিলশা গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন, বামনবাড়িয়ার গোলাপ মন্ডল, পিপলার ময়েজ উদ্দিন, হরদমার হাসান  আলীসহ অনেকে বলেন, ‘কচুরিপানা পরিষ্কার করতে পকেটের টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এক বিঘা জমির কচুরিপানা পরিষ্কার করতে ১০-১২ জন শ্রমিক প্রয়োজন হচ্ছে। চুক্তিতে ছাড়াও শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ৭শো থেকে ১ হাজার টাকা। জমিতে কচুরিপানার ছাড়াও আড়াইল ঘাসের পরিমাণ বাড়ছে।’

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন,শুধু কচুরিপানা পরিষ্কার করতেই প্রতি বিঘা জমিতে অতিরিক্ত ৫-৭ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সরকারি সহযোগিতা নেই। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে জমি পরিষ্কারের চেষ্টা করলেও শ্রমিক সংকটের কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম রাফিউল ইসলাম ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা বলেন, ‘বিলসা বিলে কচুরিপানার নিচে প্রায় ৭শো হেক্টর কৃষিজমি। বিভিন্ন স্থানে মা ও পোনা মাছ নিধনকারী অবৈধ সোঁতিজালের কারণে কচুরিপানা আটকে জট সৃষ্টি হচ্ছে।  ফলে আবদ্ধ বিলে মাছের প্রজনন কমছে। কচুরিপানা ও সোঁতিজাল অপসারণ কার্যক্রম চলমান আছে। এছাড়া কৃষকদের পরামর্শের পাশাপাশি মেশিন দিয়ে কচুরিপানা কেটে পরিস্কারে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে আছে উপজেলা প্রশাসন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডিম-মুরগি বিক্রি : সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের পাশাপাশি ন্যূনতম

1

ময়মনসিংহে সেচ সহায়ক সরঞ্জামাদি বিতরণের উদ্বোধন

2

দেশের বৃহত্তম ভাসমান হাট বৈঠাকাটা

3

পদ্মার ২ বাঘাড় বিক্রি হলো সোয়া লাখ টাকা

4

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল ২২ কেজির ধাতিনা ভোল

5

সখের প্রাণী খামারে আবিদের বাগ্য বদল

6

বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে কঠোর অভিযান চলবে

7

শ্রীপুর থানার সামনে গরু চুরি বন্ধের দাবিতে গ্রামবাসীর বিক্ষো

8

রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে বারি-৪ আম

9

আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে নিরাপদ চিংড়ি উৎপাদন নিশ্চিত

10

সৌদি খেজুর চাষে দম্পতির ভাগ্য বদল

11

সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে কাউনের বাম্পার ফলন

12

বিদেশি ফল চাষে সফল উদ্যোক্তা খাদিজা বেগম

13

কৃষিপণ্য রপ্তানি করা সরকারের মূল টার্গেট: কৃষিমন্ত্রী

14

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৯ টন জিরা জব্দ

15

সারসহ ২৩ পাচারকারী আটক

16

ভিএইচটি প্লান্ট চালু: খুললো আরো নতুন দেশে আম রফতানির দ্বার

17

বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার

18

মিরপুর চিড়িয়াখানা খাঁচা থেকে বের হওয়া সিংহ খাঁচায় ফিরল

19

বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে কৃষি খাতকে আরো উন্নত করতে হবে : শ

20