কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 6, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কৃষি সময়-এর মুখোমুখি সফল আমচাষি মোহাম্মদ ইমামুল হক পান দোকানী থেকে আম চাষে বছরে লাভ করেন কোটি টাকা


নওগার সাপাহার উপজেলার ৩৪ বছরের যুবক ইনামুল হক। এক সময় ছিলেন ক্ষুদ্র পান দোকানী। সেখান থেকে জড়িয়ে পড়েন আম চাষাবাদে। ২০০৯ সালে মাত্র এক বিঘা জমিতে আ¤্রপলি বাগান করেন। লাভের মুখ দেখায় সেখান থেকে শুরু করেন আম চাষাবাদ। এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি এখন গড়ে তুলেছেন প্রায় ২৮০ বিঘা জমিতে আ¤্রপালি,বারি-৪,ব্যনানা,গৌরমতি,আশি^না আমের বাগান। যেখানে প্রতিদিন কাজ করছেন ৭০ জন শ্রমিক। বিশে^র কয়েকটি দেশে এবার রপ্তানী হচ্ছে তার বাগানের আম। সব খরচ বাদে এক মৌসুমে তিনি এই বাগান থেকে কোটি টাকা লাভের আশা করছেন। সংসারের অভাব হটিয়ে ছেলে মেয়েদেও পড়ালেখা করাচ্ছেন। একেবারে শুন্য থেকে সফল হওয়া এই কৃষি উদ্যোক্তা খোলামেলা কথা বলেছেন কৃষি সময়ের সাথে। 

কৃষি সময়: আপনার শুরুর গল্পটা জানতে চাই। কীভাবে আমের ব্যবসায় এলেন ?

মোহাম্মদ ইমামুল হক: আমি ক্লাস ওয়ানে পড়ার সময় থেকেই ব্যবসার সাথে জড়িত। প্রথমে পানের দোকান ও মুদিখানার ব্যবসা করতাম। পরে ফলের ব্যবসায় আসি। ফলের ব্যবসা করতে করতেই আমচাষের প্রতি একটা আগ্রহ তৈরি হয়। ২০০৯ সালে প্রথম এক বিঘা জমিতে আ¤্রপালি, আমের বাগান করি। ভালো লাভ হওয়ায় ধীরে ধীরে বাগান বাড়াতে থাকি। আজ আল্লাহর রহমতে ২৮০ বিঘা জমিতে নানা জাতের আমের বাগান করেছি।

কৃষি সময়: এবার কত বিঘা জমিতে কী কী জাতের আম চাষ করেছেন ?

ইমামুল হক: ২৮০ বিঘা জমি জুড়ে আমার বাগান রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৬০ বিঘায় ফলন এসেছে। সবচেয়ে বেশি রয়েছে ১শ’৫০ বিঘায় আ¤্রপালি,। এছাড়া বারি-৪, আ¤্রপালি, ব্যানানা, গৌরমতি ও আশিনা জাতের আম রয়েছে। নতুন নতুন জাত নিয়েও কাজ করছি।

কৃষি সময়: আপনার বাগানে জিএপি (এঅচ) পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর সুবিধা কী ?

ইমামুল হক: জিএপি পদ্ধতিতে পরিচর্যা করার কারণে আমের গুণগত মান অনেক ভালো হয়েছে। দাগ বা স্পট নেই, রঙ ও খুব সুন্দর। বাজারে আমাদের আমের চাহিদা বেশি। অন্য অনেক চাষির তুলনায় প্রতি মণে প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি দাম পাচ্ছি।

কৃষি সময়: এ বছরের আম সংগ্রহ বা হারভেস্ট কবে থেকে শুরু করেছেন ?

ইমামুল হক: প্রথমে আ¤্রপালি, আম সংগ্রহ করেছি। এরপর ব্যানানা, তারপর বারি-৪, গৌরমতি এবং সবশেষে আশিনা সংগ্রহ করব। আগামী ২০ জুলাই থেকে বারি-৪ জাতের আম হারভেস্ট শুরু হবে।

কৃষি সময়: শুরুতে বাজার পরিস্থিতি কেমন ছিল ?

ইমামুল হক: শুরুতে বাজারে একটু ধাক্কা ছিল। পরে বিদেশে রপ্তানি বাড়ায় বাজার ভালো হয়েছে। এখন দামও সন্তোষজনক পাওয়া যাচ্ছে।

কৃষি সময়: এত বড় বাগানের জমি কি নিজের ?

ইমামুল হক: না। বেশিরভাগ জমিই মালিকদের কাছ থেকে টেন্ডার বা লিজ নিয়ে চাষ করছি।

কৃষি সময়: বছরে কত টাকা বিনিয়োগ করতে হয় ?

ইমামুল হক: মোটামুটি দেড় থেকে দুই কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করতে হয়। শ্রমিক, পরিচর্যা, সার, কীটনাশকসহ সব খরচ মিলিয়ে এই ব্যয় হয়।

কৃষি সময়: আপনার বাগানে প্রতিদিন কতজন শ্রমিক কাজ করেন ?

ইমামুল হক: প্রতিদিন গড়ে ৭০ জন শ্রমিক কাজ করেন। তাদের মজুরি ও খাবার মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। একজন শ্রমিককে দৈনিক ৫০০ টাকা করে দিতে হয়।

কৃষি সময়: এবার লাভের আশা কত ?

ইমামুল হক: সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা লাভের আশা করছি। বাজার ভালো থাকলে মোট বিক্রি প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা হতে পারে।

কৃষি সময়: আপনার বাগানের আম কোন কোন দেশে যাচ্ছে ?

ইমামুল হক: আমাদের আম কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। এবার জাপানেও আম গেছে। প্রথমে আ¤্রপালি, ও ব্যানানা গেছে। বারি-৪ নিয়েও আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

কৃষি সময়: নতুন কোনো জাত নিয়ে কাজ করছেন ?

ইমামুল হক: হ্যাঁ। পরীক্ষামূলকভাবে ভারতের একটি জাত 'রমত্য' আম লাগিয়েছি। এখনো বাংলাদেশে এটির নামকরণ হয়নি। মাত্র ১০টি গাছ রয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে। আ¤্রপালি, পরপরই এ জাতের আম বাজারে আসবে।

কৃষি সময়: আপনার সবচেয়ে বড় আমের ওজন কত ?

ইমামুল হক: এই জাতের একটি আমের ওজন প্রায় ৭০০ গ্রাম। দুটি আম মিলিয়ে প্রায় দেড় কেজি হয়ে যায়।

কৃষি সময়: আপনার লেখাপড়ার পরিধি কতটুকু ?

ইমামুল হক: আমি ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছি। এরপর পুরোপুরি ব্যবসায় নেমে পড়ায় পড়াশোনা আর করা হয়নি। 

কৃষি সময়: ২০০৯ সালে কেন আমচাষে এলেন ?

ইমামুল হক: আমাদের এলাকায় অন্য একজন বাগান করেছিলেন। দেখে বুঝলাম এই আমের চাহিদা অনেক। তাই এক বিঘা আ¤্রপালি, দিয়ে শুরু করি। লাভ হওয়ায় ধীরে ধীরে বাগান বাড়িয়েছি। এখন ২৮০ বিঘায় পৌঁছেছি।

কৃষি সময়: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী ?

ইমামুল হক: নতুন নতুন জাতের আম নিয়ে আরও কাজ করতে চাই। আগে হিমসাগর ও ল্যাংড়া বেশি ছিল। এখন বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আ¤্রপালি, বারি-৪, আশিনা, গৌরমতি ও ব্যানানা জাতের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। ভবিষ্যতে আরও আধুনিক ও রপ্তানিযোগ্য জাত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি সময়: আপনার পরিবার সম্পর্কে কিছু বলুন।

ইমামুল হক: আমার তিন ছেলে। সবাই লেখাপড়া করছে। তাদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষত করে ভাল মানুষ হিসাবে গড়তে চাই।

কৃষি সময়: আপনি কি কখনও বিদেশে গেছেন ?

ইমামুল হক: না, এখনো যাওয়া হয়নি। ব্যবসার ব্যস্ততার কারণে সময় পাই না। তবে ইচ্ছা আছে। যদিও আমি বিদেশে যাইনি, কিন্তু আমার বাগানের আম ইতোমধ্যে প্রায় বিশে^র ১০টি দেশে যাচ্ছে। এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।

কৃষি সময়: আম নিয়ে আপনার আগামীর স্বপ্ন কী ?

ইমামুল হক: আল্লাহর রহমতে আরও এগিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশের আমকে বিশে^র আরও বেশি দেশে পৌঁছে দিতে চাই। নতুন জাত, উন্নত প্রযুক্তি ও ভালো মানের আম উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের সুনাম বাড়ানোই আমার স্বপ্ন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশের ২৪ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ,সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি

1

বদলে যাচ্ছে কুষ্টিয়ার মসলার গ্রাম

2

প্রতি হেক্টরে ধান হবে ১৫ টন, গবেষণা করছে এসিআই

3

বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা

4

সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন

5

কৃষির উন্নয়ন হলে দেশের উন্নয়ন হবে : মন্ত্রী

6

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

7

শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন

8

সিরাজগঞ্জের যমুনার চরাঞ্চলে বারোমাসি মরিচ চাষে বাম্পার ফলনে

9

‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু

10

রফতানিমুখী বাণিজ্যিক কৃষি : উন্নয়ন এবং চ্যালেঞ্জ

11

তিন দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে বাকৃবিতে মানববন্ধন

12

পেঁয়াজের দাম এখনো চড়া, আমদানি অনুমতি চারগুণ বাড়লো

13

সিসা দূষণ নির্মূলে জাতীয় কৌশলপত্র চূড়ান্ত করছে সরকার

14

চুক্তিতে কৃষিসচিব থাকছেন ওয়াহিদা আক্তার

15

আইএসও সার্টিফিকেশন অর্জন করলো সিনট্যাক্স গ্লোবাল

16

বাকৃবি এগ্রি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্সের সভাপতি খালিদ,সম্পাদক শ

17

প্রতিযোগী দেশের সাথে টিকে থাকা দায় দেশীয় স্পিনিং শিল্পের

18

বন্ধ হচ্ছে এক দিনের বাচ্চা আমদানি, পক্ষে বিপক্ষে মত

19

জিংকসমৃদ্ধ বিনাধান–২০ চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচন

20