কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 10, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সিরাজগঞ্জে ড্রাগন ফলে সচ্ছল কৃষকরা


টি এম কামাল,কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ): সিরাজগঞ্জে এবার ড্রাগন ফল বাগান চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ চাষে অনেক কৃষকের স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। বর্তমানে বাজার ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি। লাভজনক এ ফল বাগান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে এ ফল বাগান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কৃষকেরা এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষ করেছেন। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ ফলের চাষ বেশি হয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানেও এ ফলের চাষ হয়ে থাকে।

প্রতিবছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করতে হয়। তবে সারা বছরও হাইব্রিড জাতের ড্রাগন ফল চাষ করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে উঁচু, দোআঁশ ও বালিজাতীয় জমিতে এ চাষাবাদ ভালো হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করে জমিতে রোপণ করা হয়। এসব ড্রাগন ফলের চারার মধ্যে রয়েছে বাউ-১, ২ ও ৩। এ অঞ্চলে বাউ-৩ জাতের ড্রাগন ফল বাগান বেশি চাষ হয়ে থাকে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এ ফল চাষে প্রথমে জমির ২ গজ পরপর সিমেন্টের খুঁটি ও জিআই তার দিয়ে স্ট্রাকচার তৈরি করতে হয়। এ স্ট্রাকচার ঘিরে ফলের চারা রোপণ করা হয়। প্রায় ৬ মাস পর বাগানের গাছে ফুল ফুটে। এ ফুল দেখতে অনেকটা সূর্যমুখী ফুলের মতো। সকাল ও পড়ন্ত বিকেলে এ বাগানে সেলফি তোলারও হিড়িক পড়ে। আর এ ফুল থেকেই ড্রাগন ফল উৎপন্ন হয়ে থাকে। এ ফল বাগানে স্ট্রাকচারে ৬ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত ফল উৎপাদন হয়ে থাকে। এবার এ ফল বাগান চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে এবং খরচ কম, লাভ বেশি। এতে এ ফল বাগান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকেরা।

এরমধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দইভাঙ্গা নদীর তীরে ব্রক্ষ্মখোলা গ্রামের আদর্শ কৃষক ও উদ্যোক্তা এস এম ইদ্রিস আলী (৬৫) এবার তার প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে বাউ-৩ ড্রাগন ফল বাগান চাষ করেছেন। এ বাগানে গত বছরের চেয়ে এবার উৎপাদনও বেশি হয়েছে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, “২০২৩ সাল থেকে এ ড্রাগন ফল বাগান চাষ করছি। এ চাষে প্রথমে কিছুটা ত্রুটি ঘটলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণে এ চাষে সফলতা পাচ্ছি। প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে এ বাগানের ফল উৎপাদন হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি কেজি গড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি করছি। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি ফল গড়ে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য জাতের ড্রাগন ফল ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই বাগান থেকে প্রায় দেড় মেট্রিক টন ফল বিক্রি করা হয়েছে। আরও ৭ থেকে ৮ মেট্রিক টন ফল উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। প্রতিবিঘা জমিতে এ চাষে প্রায় ২ লাখ টাকা লাভ হয়ে থাকে। এ ফল খেলে ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগে উপকার হয় বলেও তিনি দাবি করেন। এদিকে এ বাগান চাষ দেখে এ অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
 ইতিমধ্যেই স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে অনেকেই এ ফল বাগান চাষ শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, “এবার এ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। লাভজনক এ ফল বাগান চাষে কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগ কৃষকদের পরামর্শও দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, এ চাষে ইতিমধ্যেই অনেক কৃষকের স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। বাজারে এ ফলের দাম ভালো থাকায় তারাও খুশি। 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না

1

রফতানিমুখী বাণিজ্যিক কৃষি : উন্নয়ন এবং চ্যালেঞ্জ

2

ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ

3

ঈদের ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে অফিসে ফিরতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের

4

সংসদের সম্মতি থাকলে পুরাতন ডিলার বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ: প্রধান

5

ক্যাডেটরা গভীর সমুদ্রের অকুতোভয় কাণ্ডারী হতে চলছে : মৎস্য ও

6

মৎস্যবিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনে ‘ইয়ং ফিশারিজ স্টুডে

7

করমুক্ত আয়সীমা পৌনে চার লাখ টাকা করার প্রস্তাব

8

সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন

9

শস্য ভান্ডারে যুক্ত হলো দু’টি হাইব্রিডসহ ছয় নতুন ধানের জাত

10

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে জানলেন তিনি ‘মৃত’

11

সংস্কার কমিশনে ২২ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা দিলো মুক্ত গণমাধ্য

12

রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন

13

হাজার কোটি টাকার ছাড়াবে সিরাজগঞ্জের সরিষাকেন্দ্রিক বাণিজ্য

14

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন

15

শ্রীলঙ্কার পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্ট

16

ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে স

17

রমজানে ১০ লাখ পরিবারকে সুলভমূল্যে প্রোটিন খাদ্য দেবে সরকার

18

অপুষ্টি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

19

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে জিরো টলারেন্স নিশ্চিত করতে

20