কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 8, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নগরে বাগান করে বেড়ানো রকিবুল পাচ্ছেন 'বৃক্ষ রোপনে জাতীয় পুরস্কার'


স্টাফ রিপোর্টারঃ ইট-কংক্রিটের নগরে এক চিলতে সবুজ ফিরিয়ে আনতে গত এক দশক ধরে নিরলস কাজ করে চলেছেন তিনি। শহরের ছাদ, বারান্দা, অফিস কিংবা ঘরের কোণে কোণে বাগান গড়ে তোলাই তাঁর নেশা। সেই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫’-এ বৃক্ষ গবেষণা, সংরক্ষণ ও উদ্ভাবন শাখায় জাতীয় পরিবেশ পদক পাচ্ছেন ‘গার্ডেনিং বাংলাদেশ’ এর স্বত্বাধিকারী মো. রকিবুল আমিন। তার বেড়ে ওঠা কুষ্টিয়ায়। 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জানা যায়, রকিবুল পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকে নিজের বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছিলেন গোলাপসহ বিভিন্ন ফুলের বাগান। এলাকার মানুষ সেই বাগান দেখতে আসতেন। ২০০১ সালে ঢাকায় এসে প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায় । তিনি ঢাকা কলেজে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর উপলব্ধি করেন, শহরে গাছের চেয়ে কংক্রিটের উপস্থিতিই বেশি। সেই উপলব্ধিই তাঁকে ভাবতে শেখায়- নগরে প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে শহরও কিছুটা প্রাণ ফিরে পাবে। এরপর ধীরে ধীরে ফুলের সাজসজ্জা, ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন, টেরারিয়াম, পেলুডারিয়াম ও ইনডোর গার্ডেনিংকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের উদ্যোগ নেন তিনি। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘গার্ডেনিং বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকাসহ দেশের ভিবিন্ন এলাকায় সড়ক, রিসোর্ট, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, পোশাক কারখানা, আবাসন প্রকল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ইকোপার্ক, লেক এবং ব্যক্তিগত বাড়িতে সবুজায়নের কাজ করছে। এখন পর্যন্ত শতাধিক ছোট-বড় ল্যান্ডস্কেপ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে গার্ডেনিং বাংলাদেশ। 

রকিবুল আমিন এখন ‘জিরো সয়েল’ ধারণা নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর মতে, কোনো খোলা মাটি অনাবৃত রাখা উচিত নয়। ঘাস, লতা কিংবা অন্য কোনো উদ্ভিদ দিয়ে প্রতিটি ফাঁকা জায়গা ঢেকে দেওয়া সম্ভব। এতে যেমন নগর সবুজ হবে, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা যাবে।

তিনি এখন ‘গার্ডেন মিশন’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন। তাঁর লক্ষ্য, সারা দেশে নগর সবুজায়নকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা। একই সঙ্গে তিনি পলিথিনের আগ্রাসন কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন জনপ্রিয় করতে কাজ করতে চান।

রকিবুল আমিন বলেন, আমি চাই মানুষ প্রতিদিন অন্তত একবার গাছের কাছে যাক। একটি গাছ শুধু অক্সিজেন দেয় না, মানুষের মনও ভালো রাখে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ রেখে যেতে পারলেই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হবে। এই পুরস্কার আরও বড় দায়িত্ব নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নার্সভুক্ত ১২ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীদের সংগঠন ‘নার্সসাব’র সাথ

1

পেঁয়াজ পচা রোধে বড় উদ্যোগ, বসছে ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন : কৃ

2

জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও দূষণ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অর্থায়নের আহ্ব

3

তিন দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে বাকৃবিতে মানববন্ধন

4

বাধ্যতামূলক অবসরে সচিব মিয়ান কৃষিতে রেখে গেছেন নিজস্ব বলয়

5

হালদা রক্ষা শুধু অর্থনীতি নয়, জীবনবোধের অংশ: মৎস্য উপদেষ্টা

6

মূল্যস্ফিতি কিছুটা বেড়েছে

7

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে তৃতীয় গ্রেডের পদোন্নতিতে জ্যোষ্ঠতা

8

অতীতের রাষ্ট্রপরিচালকেরা দুর্নীতি করে আঙুল ফুলে বটগাছ হয়েছেন

9

শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পলাশ, সম্পাদক মামুন

10

মিথেন গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায় বাংল

11

সবজি-সালাদে মানবদেহের ক্ষতিকর কীটনাশকের উপস্থিতি

12

বাড়ির দোতলায়ও পানি, ভাই–বোনের খোঁজ পাচ্ছেন না গায়িকা পুতুল

13

বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা

14

যুগের পর যুগ যেখানে যুগলজীবনের শুরু

15

প্লানিং কমিশনের সদস্যের বক্তব্য অবাক হয়ে শুনলেন সবাই ।। ড. ক

16

বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা

17

বন্ধ হচ্ছে এক দিনের বাচ্চা আমদানি, পক্ষে বিপক্ষে মত

18

বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার

19

টেকসই খাদ্য নিরাপত্তায় মূল চ্যালেঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তন : কৃষিম

20