স্টাফ রিপোর্টারঃ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন কয়েক হাজার জেলে। প্রজনন এবং এই হ্রদের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সরকার তি মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে হ্রদনির্ভর পরিবারগুলো। খাগড়াছড়ির মহালছড়ি মৎস্য উপকেন্দ্রের প্রায় তিন হাজার জেলে চরম সংকটে পড়েছেন।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস মাছ আহরণ কার্যক্রমের উপর এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ। এই সময়ে এখানে কেউ কোন ধরনের মাছ আহরণ করতে পারবে না। এই সময়কালীণ নিবন্ধিত জেলেদের জন্য প্রতি মাসে ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ করেছে মৎস্য বিভাগ। তবে জেলেরা বলছে এ বরাদ্দ তাদেও চাহিদার তুলনায় একবারে অপ্রতুল। ফলে চরম বিপাকে পড়েছে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি এলাকার জেলে পরিবারগুলো।
স্থানীয় জেলেরা জানায়,দীর্ঘদিন ধরে তারা কাপ্তাই হ্রদের মহালছড়ি অংশে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে বরাদ্দের ওই চাল দিয়ে তাদের সংসার চালানো কোন মতে সম্ভব নয়।
শুধু ২০ কেজি চাল দিয়ে আট সদস্যের পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকার যদি আরও কিছু সহায়তা দিত, তাহলে আমাদের মতো জেলেরা কিছুটা স্বস্তিতে থাকতে পারতাম। জেলেদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার তিন মাসে চালের বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি বিকল্প আয়বর্ধক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হোক।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত বলেন, অনিবন্ধিত জেলেদের নিবন্ধনের আওতায় আনা, মাছ আহরণ বন্ধের সময়ে বিকল্প আয়বর্ধক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং জেলেদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।