কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 10, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজারে বন্যা পাহাড় ধ্বসে মৃত ২৫ঃ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষি জমি


কৃষি সময় ডেস্কঃ টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মাতামুহুরী নদী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটেছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং সড়ক যোগাযোগসহ স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা, পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে চকরিয়া উপজেলার হারবাং সেতু এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবির ঘটনায় আব্দুল মালেকের ১২ বছর বয়সী কন্যা হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার মৃত্যু হয়। এর আগে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নে দুই বছরের ওয়াকিম এবং মাতামুহুরীর কোনাখালী ইউনিয়নে তিন বছরের পুষ্প মারা যায়। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের মোহছেনিয়াকাটা (ডবলতলী) এলাকায় ভোররাতে পাহাড়ধসে দুই ভাইবোন নিহত হন। নিহতরা হলেন- তৌসিফ মিয়া (১৩) ও রুমি আক্তার (১৭)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার পাহাড়ধসে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে অব্যাহত বৃষ্টির কারণে ঘরবাড়ি, সড়ক ও কৃষিজমি পানির নিচে চলে গেছে। রান্না করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে এবং স্লুইস গেট খুলে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও প্রশাসন জানিয়েছে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, কৃষিজমি, আমনের বীজতলা ও চিংড়ির ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা অব্যাহত থাকলে কৃষি ও মৎস্য খাতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন স্থানীয়রা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্থানীয় সরকার নয়, জাতীয় নির্বাচন আগে চায় বিএনপিসহ বিভিন্ন দল

1

৪৮ রানে ৭ উইকেট হারাল পাকিস্তান, ওয়ারিকানের স্পিন–ঘূর্ণি

2

খামারবাড়িতে কর্মকর্তাদের হুমকি ও চাঁদা দাবি শেকৃবি ছাত্রদল ন

3

হালদা রক্ষা শুধু অর্থনীতি নয়, জীবনবোধের অংশ: মৎস্য উপদেষ্টা

4

মিথেন গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায় বাংল

5

সংসদের সম্মতি থাকলে পুরাতন ডিলার বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ: প্রধান

6

গোলা ভরা ধান, তবুও ফিকে কৃষকের স্বপ্ন

7

জুনিয়র বিসিএস কর্মকর্তার ঘুষিতে রক্তাক্ত সিনিয়র কর্মকর্তা

8

বৃহত্তর খুলনার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজলাল কল

9

‘আমি ভয়ও পাচ্ছি, কারণ ইসরায়েলিদের বিশ্বাস করি না’

10

ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে স

11

বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার

12

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড

13

বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা

14

রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন

15

হালদা রক্ষা শুধু অর্থনীতি নয়, জীবনবোধের অংশ: মৎস্য উপদেষ্টা

16

মুক্তমত প্রকাশ–সংক্রান্ত ও গায়েবি মামলা ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্

17

কৃষির উন্নয়ন হলে দেশের উন্নয়ন হবে : মন্ত্রী

18

জাতীয় ফলমেলায় শৈশবের স্বাদ খুঁজছেন দর্শনার্থীরা

19

পেঁয়াজ পচা রোধে বড় উদ্যোগ, বসছে ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন : কৃ

20