প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 21, 2026 ইং
চাহিদার ৪ গুণ বেশি শাক-সবজি উৎপাদন রংপুরে

রংপুর প্রতিনিধিঃ স্থানীয় চাহিদার চেয়ে প্রায় ৪ গুণ বেশি শাক-সবজি উৎপাদন হচ্ছে রংপুরে। এর মাধ্যমে জীবন জিবিকা চলে অনেক চাষীর। তবে সংরক্ষণাগার না থাকায় প্রতি বছর সবজি নষ্ট এবং কাঙ্খিত দাম না মেয়ে মার খাচ্ছেন চাষীরা।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে রবি মৌসুমে ১৭ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে শাক-সবজির আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৭৬৪ মেট্রিক টন। খরিপ-১ মৌসুমে ১১ হাজার ৪’শ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ৯’শ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৪ মেট্রিক টন। চলতি খরিপ-২ মৌসুমে ৬ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে শাক-সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এখন পর্যন্ত ২ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে শাক-সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৩৮ মেট্রিক টন। রবি, খরিপ-১ ও খরিপ-২ মৌসুম মিলে রংপুর জেলায় ৩৫ হাজার ৫৪০ হেক্টরের বেশি জমিতে ৮ লাখ ৬৩ হাজার ১৯৬ মেট্রিক টন শাক-সবজি উৎপাদন হবে। এর বিপরীতে জেলার চাহিদা মাত্র ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন। যা স্থানীয় চাহিদার প্রায় ৪ গুণ শাক-সবজি উৎপাদন হচ্ছে রংপুর জেলায়।
রংপুর জেলার সবজি উৎপাদনের শীর্ষ উপজেলা মিঠাপুকুর। এ উপজেলায় বরবটি, করলা, কাকরোল, পটল, লাউ, মিষ্টি কুমড়া সহ প্রায় ২০ প্রকার শাক-সবজিতে ভরে গেছে কৃষকের মাঠ। তীব্র তাপদাহকে উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন কৃষক। দিনভর সবজি খেতে নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন তারা।
রানীপুকুর ইউনিয়নের সদর এলাকার রমজান আলী ২০ শতক জমিতে কাকরোল আবাদ করেছেন। তিনি জানান,‘মৌসুমোত সবার কাঁচামাল একসাতে বাজারোত আইসে। সেই সময় ১০ টাকার মাল ৫-৬ টাকায় বিক্রি হয়। কাকরোল এ্যালা ১০ টাকা থ্যাকি ১৫ টাকা কেজি বিক্রি করা নাগতোছে। স্টোর থাকলে ওটে রাখি একনা দেরি করি বেচা গেইলে ৪০ টাকা কেজি করি বেচবার পানু হয়।
সবজি উৎপাদনে এখানকার কৃষকরা কিটনাশক ও রাসায়নিক সারের পরির্বতে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারেও সচেতন। ফসল চাষাবাদের চেয়ে সবজি চাষাবাদে আয় বেশি হওয়ায় এর প্রতি বিশেষ যতœ তাদের। বছরজুড়ে নানা ধরনের সবজি চাষাবাদ করে ভাল টাকা আয় করেন অনেকে।
আনিছুর রহমান নামে এক কৃষক বলেন, আমি লাউয়ের আবাদ করি ক্ষেত থেকে প্রতি পিস ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি করছি। কিন্তু এটা সংরক্ষণ করা গেলে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করা যেত। আমরা যদি ফসলের ন্যায্য মূল্য বা ভালো দাম পাই তাহলে উৎপাদনে আগ্র্র বাড়বে। আর রংপুরের উৎপাদিত ফসল কৃষকরা যদি নিজস্ব সংগঠনের মাধ্যমে রেলপথে সরাসরি ঢাকা চট্টগ্রামে পাঠাতে পারতো, তাহলে বেশি লাভবান হতো।
বিভিন্ন সময়ে রংপুর জেলায় শাক-সবজি সংরক্ষণে একাধিক সংরক্ষণাগার স্থাপনের প্রতিশ্রæতি দেয়া হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি আজোও । ফলে বছরের পর বছর কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাই কৃষকরা বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত শাক-সবজি সংরক্ষণাগার নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, যেসব মিনি কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করা হচ্ছে এর সফলতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে সারাদেশে ২ হাজার মিনি কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করা হবে। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত শাক-সবজি সেখানে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে রাখতে পারবেন।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়