প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 21, 2026 ইং
কুমিল্লায় আঙুর চাষের নতুন সম্ভাবনা

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লায় আঙুর চাষাবাদে সফলতা পেয়েছেন মো.মোজাম্মেল হক নামে এক ব্যক্তি। ইউটিউব দেখে আঙুর বাগান গড়ে তিনি নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছেন। এখন তার বাগানে থোকায় ঝুলে আছে আঙুর। প্রতিদিন লোকজন ভিড় করছে তার বাগান দেখার জন্য। মোজাম্মেলের বাড়ী জেলার তিতাস উপজেলার শোলাকিয়া গ্রামে। এমন সফলতায় কুমিল্লার মাটিতে আঙুর চাষাবাদের নতুন সম্ভাবনা দেখছেন অনেকেই।
জানা যায়,মোজ্জামেল ইউটিউব দেখে গ্রামের গোমতী নদীর তীরে ৩১ শতক জমিতে আঙুর বাগান গড়ে তোলেন। বাঁশের খুঁটি, মাচা ও নেট দিয়ে সুরক্ষিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বাগানটি। উপজেলার শোলাকান্দি এলাকার গোমতী নদীর দক্ষিণ তীরে ৩১ শতাংশ জমিতে আঙুরের বাগান গড়ে তুলেছেন মোজাম্মেল হক। বাগান ঘুরে দেখা যায়, বাঁশের খুঁটি, মাচা ও নেট দিয়ে সুরক্ষিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বাগানটি। নিচু জমিকে চাষের উপযোগী করতে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ভরাট করেছেন বালি ও পলিমাটি দিয়ে। পরে ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে ৪শ’টাকা দরে একুনো, বাইকুনো, বø্যাক ম্যাজিক, একাডেমি ও পর্তুগাল জাতের ১৪৪টি আঙুরের চারা সংগ্রহ করেন। তিনি প্রায় ৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন এই বাগানে। ইতোমধ্যে তার বাগানের গাছে গাছে আঙুর ধরেছে।
মোজাম্মেল জানান, ইউটিউবে মহেশপুরের এক আঙুরচাষির বাগান দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন। এরপর নিজেই শুরু করেন আঙুর চাষ। রোপণের আড়াই মাসের মধ্যেই আসতে শুরু করেছে গাছে ফল। অতিবৃষ্টি এবং বাগান নতুন হওয়ায় এবার ফলন কিছুটা কম হতে পারে। তবে আগামী বছরগুলোতে ভালো ফলনের বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তিনি উল্লেখ করেন,একটি আঙুর গাছ ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত ফল দিতে সক্ষম। শখের বশে তিনি বাগানে রামবুটান, পেঁপে এবং ইতালি থেকে আনা কয়েকটি বিদেশি ফলের চারাও রোপণ করেছেন।
এদিকে একই উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের যুবক আবুল হোসাইন শাহেদও ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে চলতি বছরের মে মাসে ৫০ শতাংশ জমিতে প্রায় ৫৫০টি আঙুরের চারা রোপণ করেছেন। মাত্র দুই মাসের মধ্যেই অনেক গাছে আঙুর ধরেছে। আঙুরের পাশাপাশি তিনি আনারকলির চারাও রোপণ করেছেন।
তিতাস উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান,শাহেদের বাগান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মোজাম্মেল হকের আঙুর চাষের বিষয়টিও কৃষি বিভাগের জানা রয়েছে। প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাগানটির কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হবে।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়