প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 20, 2026 ইং
সিরাজগঞ্জের কৃষকরা পাট ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত

টি এম কামাল,কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়িয়ে ধোয়া এবং শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় সময়মতো পাট কেটে বিভিন্ন জলাশয়ে জাগ দিতে না পারলেও, দিনকয়েক আগের ভারী বর্ষণে ডোবা-নালা ও জলাশয়গুলো পানিতে ভরে উঠেছে। সেই নতুন পানিতেই এখন পুরোদমে চলছে পাট জাগ দেওয়া ও ধোয়ার কাজ।
সরেজমিনে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলায় পাট চাষের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম থাকায় অনেক স্থানে রোপণ কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ফলন বেশ ভালো হয়েছে। এতে কৃষকেরা অত্যন্ত আনন্দিত। বিভিন্ন এলাকায় চাষিরা এখন পাট কেটে নদী, নালা, খাল, বিল ও ডোবায় জাগ দেওয়া, আঁশ ধোয়া এবং তা হাটে-বাজারে বিক্রির কাজে দিনরাত পার করছেন। কোথাও কোথাও আবার নারী ও পুরুষের যৌথ অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে পাট ছাড়ানোর কাজ।
কামারখন্দ উপজেলার তাজুরপাড়া গ্রামের পাটচাষি আব্দুল জলিল বলেন, "এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে খরচ হয়েছে সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে রয়েছে জমি চাষ, বীজ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যার খরচ। আর পাট কাটা ও ধোয়ায় খরচ পড়ছে বিঘাপ্রতি আরও ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। তবে এ বছর পাটের দাম ভালো থাকায় আমরা লাভজনক অবস্থানে রয়েছি।" হুড়াসাগর নদীর পানিতে পাট ধোয়ার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক জব্বার বলেন, "পাটের আঁশ ছাড়ানো ও ধোয়ার পারিশ্রমিক হিসেবে এক বেলার খাবারসহ দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরি পাচ্ছি।"
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় মোট ১৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশি, তোষা, মেছতা ও কেনাফ জাতের পাট।
কামারখন্দ উপজেলার ধলেশ্বর ও ঠাকুরজিপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও পাট ধোয়ার কাজে হাত বাড়িয়েছে। কেউ খেত থেকে পাট কেটে আঁটি বাঁধছেন, কেউ তা পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ পানির মধ্যে বসেই পরম যত্নে ছাড়াচ্ছেন সোনালি আঁশ। এরপর সেই আঁশ ধুয়ে বাঁশের আড়ে বা রাস্তার পাশে রোদে শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা। স্থানীয় পাটচাষি নজরুল জানান, এ বছর পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে কিছুদিন আগে পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। আল্লাহর রহমতে সময়মতো নতুন পানি চলে আসায় এখন আর কোনো সমস্যা নেই। দিনরাত এক করে তাঁরা এখন পাট ধোয়ার কাজ করছেন।
উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ পঞ্চক্রোশী গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ ও আব্দুল হামিদ জানান, নতুন ও পরিষ্কার পানিতে পাট জাগ দেওয়ার কারণে এবার আঁশের রঙ খুব সুন্দর ও উজ্জ্বল হচ্ছে। বাজারে এই উজ্জ্বল ও মানসম্মত পাটের চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। ফলে এবার ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন, "এ বছর এই উপজেলায় ১ হাজার ৬৭১ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতিমধ্যেই হাট-বাজারে পাট বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বাজারে পুরাতন পাট ৫ হাজার টাকা এবং নতুন পাট সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।"
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা জানান, জেলায় মোট ১৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। পাটের উৎপাদন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য থাকায় কৃষকেরা এবার আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছেন।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়