
কৃষি সময় ডেস্কঃ উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টিতে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলোয় দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক জোয়ার।
নতুন করে দেশের নদ-নদীগুলোর পানি বেড়ে যাওয়ায় নতুন নতুন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী পাঁচদিন দেশজুড়ে ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। এর আগে টানা বৃষ্টিতে সাত জেলায় বন্যা, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ও মারকুলী পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। দেশের ১২৭টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতেই পানি বেড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর তথ্যমতে, আগামী পাঁচদিন রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক স্থানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে রংপুর বিভাগে অতিভারি বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি ও পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি অনেক বেশি।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরো বাড়বে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর ডালিয়ায়। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের মৌসিনরামে ৩৮৯ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ২৫২ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ায় সীমান্তের নদীগুলোর পানি আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে পাটুরিয়ায় পদ্মার পানি বাড়ায় লঞ্চঘাটের সংযোগ সড়ক ডুবে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
দক্ষিণাঞ্চলে অমাবস্যার প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ভোলার মনপুরা ও চরফ্যাশন উপজেলার বেড়িবাঁধহীন চরাঞ্চলগুলো ৫ থেকে ৭ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঘরবাড়িতে বুকসমান পানি ঢোকায় অনেক পরিবার ঘরের টিনের চালে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছে।
জোয়ারের পানিতে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের ইলিশা ফেরিঘাট ও ভোলা-ঢাকা রুটের লঞ্চঘাটের সংযোগ সড়ক তলিয়ে গেছে। ফলে ঘাট এলাকায় শত শত যানবাহন ও যাত্রী আটকে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এ পরিস্থিতি দু-তিনদিনের মধ্যে স্বাভাবিক হতে পারে ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো সংস্কার করা হবে।
নদীতে পানির উচ্চতা বাড়ায় বরিশালের কীর্তনখোলা, লোয়ার মেঘনা, খুলনার পশুরসহ বেশকিছু নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার অব্যাহত রয়েছে। জোয়ারের তীব্রতায় নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জোয়ার ও বৃষ্টির কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশে আগে থেকেই ফাটল ছিল, যা পরে ভেঙে গিয়ে রাস্তাঘাট দু-তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে দেয়। সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
দেশের পাহাড়ি ও উপকূলীয় জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি বেশ আশঙ্কাজনক। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এ অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কৃ/স/জয়