প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 17, 2026 ইং
নড়াইলের নৌকা গ্রাম রামসিদ্দি

নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলের রামসিদ্দি এখন নৌকার গ্রাম হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। বংশ-পরম্পরায় শত বছর ধরে এ গ্রামের কারিগররা নৌকা তৈরি করে আসছেন। এ কাজে জড়িত এখানকার ৫শতাধিক কারিগর ও শ্রমিক। এর মাধ্যমেই চলে তাদের জীবন এবং জীবিকা।
জানা যায়,যুগ যুগ ধরে নড়াইলের এই গ্রামটিতে নানা ধরনের নৌকা তৈরি করেন কারিগররা। নানা ধরনের নকশা আর নির্মাণ শৈলীর কারনে এখানকার তৈরি নৌকার জচাহিদা জেলা ছাপিয়ে অন্য জেলাতেও। এখান তৈরি নৌকা যাচ্ছে সারা দেশে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এখানকার তৈরি নৌকার চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুন। আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টি শুরু হতেই এ গ্রামে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে কাঠ কাটার শব্দ আর হাতুড়ির ঠোকাঠুকি।
চলতি মৌসুমে রামসিদ্দি গ্রামে নৌকার চাহিদা অন্য যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি। বিভিন্ন জেলায় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় এক মাস আগে থেকেই জমে উঠেছে নৌকার হাট। কারিগররা জানান, এবার আকারভেদে প্রতিটি নৌকার দাম বেড়েছে ১-৩ হাজার টাকা। দাম বাড়লেও বিক্রিতে ভাটা পড়েনি। এখানকার ব্যবসায়ী আর কারিগররা আশা করছেন, চলতি মৌসুমে এ গ্রাম থেকে অন্তত ২ কোটি টাকার নৌকা বিক্রি হবে।
রামসিদ্দি গ্রামের কারখানায় তৈরি হয় বিশেষ ধরনের ‘কালাই-ঢালাই’ নৌকা। বিল অঞ্চলে চলাচলের জন্য এ নৌকার জুড়ি নেই। উড়ি আম, পোয়া ও মেহগনি কাঠ দিয়ে নিপুণ হাতে তৈরি হয় এসব নৌকা।
নড়াইল জেলার চাহিদা মিটিয়ে এ নৌকা চলে যাচ্ছে পাশের অন্তত ১০টি জেলায়। খুলনা, যশোর, মাগুরা, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা পাইকারি দরে নৌকা কিনতে প্রতি সপ্তাহে ভিড় করছেন এ গ্রামে। চলতি মৌসুমে গ্রামের ৪০টি কারখানায় প্রায় ছয় হাজার নৌকা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বছরের প্রায় ছয় মাস ধরে রামসিদ্দি গ্রামে চলে নৌকা তৈরির কাজ। এ নৌকা বিক্রির জন্য প্রতি বুধবার বসে বিশেষ হাট। হাটের দিন ভোর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে ধুমসে কেনাবেচা। প্রতিটি হাটে গড়ে ১৫০-২০০টি নৌকা বিক্রি হয়। হাট থেকে নৌকা কিনে ক্রেতারা ভ্যান, নসিমন বা অন্য যানবাহনে করে নিজ গন্তব্যে নিয়ে যান।
স্থানীয় নৌকা ব্যবসায়ী রহমত কাজী জানান, গত বছর আকারভেদে প্রতিটি নৌকা বিক্রি হয়েছিল ৫-৮ হাজার টাকায়। এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় নৌকার চাহিদা বেড়েছে। দামও ১ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গুণগত মান ভালো হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা ছুটে আসছেন।
বাপ-দাদাদের এ পেশাকে গত তিন যুগ আঁকড়ে ধরে রেখেছেন প্রবীণ কারিগর বিশ্বজিৎ বিশ্বাস। তিনি জানান, এ কাজে এখন আর আগের মতো লাভ নেই। তাই নতুন করে তাদের উত্তরসূরিরা কেউ এ কাজে আগ্রহী হচ্ছেন না।
নড়াইল বিসিকের উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সুলাইমান হোসেন বলেন, ‘বেশ কয়েকটি জেলায় নড়াইলের কারিগরদের তৈরি নৌকার চাহিদা রয়েছে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য বিসিকের পক্ষ থেকে ট্রেনিং ও লোনসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়। বিসিক সবসময় কারিগরদের পাশে আছে।’
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়