প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 17, 2026 ইং
কাপাসিয়ায় দখলে দুষনে মৃত খাল

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কাপাসিয়া পৌর এলাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক খালটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। ফলে কাপাসিয়া, বানারহাওলা ও রাউৎকোনা গ্রামের সাতটি বিলে কৃষিজমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে । এতে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন কৃষকরা।
জানা যায়,কাপাসিয়ার সচল এই খাল দিয়ে এক সময় খাল দিয়ে ছোট-বড় নৌকা চলত। নদীতে বর্ষার অতিরিক্ত পানি নেমে যেত। সময়ের পরিক্রমায় সেই খাল আজ দখল, ভরাট ও দূষণের কবলে পড়ে প্রায় মৃতপ্রায়। খালটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। এর প্রভাবে কাপাসিয়া, বানারহাওলা ও রাউৎকোনা গ্রামের সাতটি বিলে প্রায় ১ হাজার ৭শ’ বিঘা কৃষিজমি বছরের পর বছর চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের।
এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। এতে খাল দখলমুক্ত করা, পুনঃখনন এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আজুখাঁর বিল থেকে বাজাল বিল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল একসময় এলাকার প্রধান পানি নিষ্কাশনের পথ ছিল। বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার পাশাপাশি কাঁঠাল, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যবাহী নৌকাও চলাচল করত। বর্তমানে অবৈধ দখল, ভরাট, ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং দীর্ঘদিন পুনঃখনন না হওয়ায় খালটি অনেক স্থানে সরু হয়ে গেছে। ফলে পানি আটকে থেকে বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
কৃষকরা স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, সাতটি বিলে ধানক্ষেত,শাকসবজি, পাট ও অন্যান্য অর্থকরী ফসলের জমি রয়েছে। একসময় বানারহাওলা মসজিদের পশ্চিম পাশের (মাস্টার কলোনি) খাল দিয়ে এসব বিলের পানি স্বাভাবিকভাবে নদীতে প্রবাহিত হতো। কিন্তু গত প্রায় এক যুগ ধরে খালটি দখল, ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পানি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর সঙ্গে বিলের মধ্যে বাঁধ দিয়ে মাছের প্রকল্প গড়ে তোলায় পানি নিষ্কাশন আরও ব্যাহত হচ্ছে।
বানারহাওলা গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানালেন, আমার আড়াই বিঘা জমি এখনো পানির নিচে। সময়মতো চাষ করতে না পারায় বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে। কয়েকজনের খাল দখলের কারণে হাজারো কৃষকের ফসল নষ্ট হচ্ছে।
একই গ্রামের কৃষক আসাদুজ্জামানের মতে, খালের উত্তর-পশ্চিম পাশে আমার পাঁচ বিঘা জমি রয়েছে। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি আটকে থাকে। ফলে জমিতে কোনো ফসল উৎপাদন করতে পারছি না। প্রতিবছরই ক্ষতির মুখে পড়ছি।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাহিদুল হক বললেন, খাল দখলের বিষয়ে তহশিল কর্মকর্তাকে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজন হলে খাল দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
আর কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হক জানালেন, গতকাল খালটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। খালটি দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়