প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 16, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 16, 2026 ইং
আঙুর বাগান থেকে লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন

মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ ইউটিউবে আঙুর চাষের ভিড়িও দেখে,সখ করে নিজের বাড়ীতে একটি চারা লাগান। ভাল ফল হওয়ায় সেখান থেকে গড়েছেন বাণিজ্যিক আঙুরের বড় বাগান। পেয়েছেন ব্যাপক সফলতা। এখন স্বপ্ন দেখছেন এই বাগান থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আয়ের স্বপ্ন। সফলতা অর্জণকারী ওই চাষীর নাম শফিকুল ইসলাম। তার বাড়ী মেহেরপুরের মুজিবনগরে।
জানা যায়, জেলার আবহাওয়া ও মাটির ধরন সম্পর্কে বিশেষ ধারণা না থাকলেও শুধু ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখে আঙুর চাষে আগ্রহী হন শরিফুল ইসলাম। প্রথমে বাড়ির উঠানে একটি চারা রোপণ করেন। এক বছর পর গাছটি বড় হয়ে ফল দিতে শুরু করে। উৎপাদিত আঙুরের স্বাদ, গুণগত মান ও সুগন্ধে উৎসাহিত হয়ে তিনি আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষের সিদ্ধান্ত নেন।
শফিকুল তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ভারত থেকে ৪৫টি কাটিং চারা সংগ্রহ করে প্রায় ৬ কাঠা জমিতে আঙুরের বাগান গড়ে তোলেন। শুরুর দিকে অনেকেই তার এই উদ্যোগকে গুরুত্ব দেননি, কেউ কেউ হাসি-ঠাট্টাও করেছেন। তবে বর্তমানে তার বাগানে পাতার ফাঁকে ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে দেশি বিদেশী আঙুর। এমন বাগান দেখে অনেকেই আঙুর চাষ সম্পর্কে পরামর্শ নিতে শরিফুলের বাগানে ভিড় করছেন। শফিকুলকে এই বাগানে সার্বক্ষনিক কাজে সহযোগী করছে তার স্ত্রী।
এখন সখের এই বাগান থেকে এ চাষাবাদের মাধ্যমে বছরে লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন এই উদ্যোক্তা। বাড়ির উঠানে লাগানো একটি আঙুরের চারা যে একদিন আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠবে, তা ভাবেননি মেহেরপুরের মুজিবনগরের শরিফুল ইসলাম।
শরিফুল ইসলাম জানান, তার বাগানের প্রতিটি গাছেই ভালো ফলন হয়েছে। প্রতিটি গাছ থেকে প্রায় এক মণ পর্যন্ত আঙুর পাওয়ার আশা করছেন তিনি। সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার আঙুর বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আঙুরের কাটিং বিক্রি করেও ভালো করছেন তিনি।
তিনি বলেন, বেকার যুবক যুবতীরা চাকরির পেছনে না ছুটে ফল চাষে এগিয়ে এলে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। আমি এ কাজের মাধ্যমে প্রতিবছর বাড়ির উঠান থেকেই লক্ষাধিক টাকার আয় করছি।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব মৃধা বলেন, মেহেরপুরের অনুকূল আবহাওয়া ও বন্যামুক্ত পরিবেশ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের ফল চাষের জন্য উপযোগী। শরিফুল ইসলামের আঙুর বাগানে চমৎকার ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন,এ জেলায় প্রায় ২০ বিঘা জমিতে সবুজ, লাল ও কালো জাতের আঙুরের চাষ হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে মেহেরপুরে উৎপাদিত আঙুর দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়