প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 16, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 16, 2026 ইং
হাওরে গোখাদ্যের সংকটে খামারীরা

নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা অকাল বন্যায় ফসল হারিয়ে প্রায় নিঃস্ব । ফসলের মাঠ থেকে সই ক্ষতির প্রভাব পড়েছে কৃষকের গোয়ালঘরেও। বন্যায় এবার বোরো ধান পচে যাওয়ায় কৃষকেরা গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য খড় সংগ্রহ করতে পারেননি। নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে এ কারনে বর্ষার শুরুতেই দেখা দিয়েছে তীব্র গোখাদ্য সংকট। বাধ্য হয়ে ক্ষতি কমাতে কম দামে গোয়ালের গরু-ছাগল বিক্রি করে দিচ্ছেন অনেক খামারী।
জানা যায়, এ অঞ্চলে ধান কাটার পর খড় শুকিয়ে সারাবছরের গোখাদ্য হিসেবে সংরক্ষণ করা। কিন্ত পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় বেশিরভাগ ধান পচে যাওয়ায় খড় সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন হাওড় এলাকার খামারি মিলন বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বন্যায় ফসল তো গেছেই, এখন জীবিকার শেষ সম্বল গবাদিপশুগুলোও ঝুঁকির মুখে। দ্রুত সহায়তা বা প্রণোদনা না মিললে এই অঞ্চলের প্রাণিসম্পদ খাতে বড় বিপর্যয় নেমে আসবে।
আরেক খামারী মো. আব্দুল্লাহ জানান , প্রতি বছর বর্ষায় একটু-আধটু গোখাদ্যের সংকট হলেও এবারের মতো কঠিন পরিস্থিতি কখনো দেখিনি। স্থানীয় বাজারে খড় মিলছেই না, আর বাইরে থেকে বেশি দামে খড় আনতে গিয়ে পরিবহন খরচে কুলাচ্ছে না। গবাদিপশু টিকিয়ে রাখাই এখন দায় হয়ে পড়েছে।
নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট নৈহাটি গরুর বাজার। এ বাজারে গরু বিক্রি করেছেন একই উপজেলার আবুল কালাম। কেমন দামে গরু বিক্রি করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অনেক আশা নিয়ে আমার খামারের দেশি জাতের গরু এই নৈহাটি বাজারে বিক্রির জন্য নিয়েছিলাম। বাজারে এখন প্রচুর গরুর আমদানি, সেই তুলনায় কাস্টমার একটু কম। তাছাড়া গোখাদ্যের যে দাম, সেজন্যই আমি লাভ কিছুটা কম রেখে কম দামে গরু বিক্রি করে দিয়েছি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, জেলাজুড়ে মোট ৩ হাজার ৩০৫ টন শুকনা খড় এবং ১০৩ টন কাঁচা ঘাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক ক্ষতির মধ্যে খালিয়াজুরিতে প্রায় ৩০০ টন শুকনা খড় ও ১০০ টন কাঁচা ঘাস এবং মোহনগঞ্জে প্রায় ২০০ টন শুকনা খড়ের ক্ষতি হয়েছে। তবে মদন উপজেলায় উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতি হয়নি। সরকারি ত্রাণ তহবিল থেকে বিশেষ কোনো বরাদ্দ পাওয়া গেলে তা দ্রুত খামারিদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
কৃ/স/জয়
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়