
মাদারীপুর প্রতিনিধি
আধুনিক টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগমুক্ত ও উন্নতমানের জি-নাইন কলার চারা উৎপাদন করছে মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টার। উচ্চ ফলন, বড় আকারের কাঁদি এবং দ্রুত ফলনশীল হওয়ায় এই জাতের কলার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টারের টিস্যু কালচার ল্যাবে বর্তমানে জি-নাইন কলাসহ সাতটি ফসলের উন্নতমানের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। ল্যাবে কাচের বোতলে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে চারা তৈরি করে পরে তা মাঠে রোপণের উপযোগী করা হয়।
সহকারী টিস্যু কালচারিস্ট কৃষিবিদ এনামুল ইসলাম জানান, জি-নাইন কলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর বড় আকারের কাঁদি এবং প্রতি কাঁদিতে অনেক বেশি কলা ধরে। একটি কাঁদিতে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ হালি পর্যন্ত কলা হতে পারে, যা সাধারণ কলার তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া কলাগুলো আকারে বড়, স্বাদ ও গন্ধ ভালো এবং বাজারে এর চাহিদাও ব্যাপক।
তিনি বলেন, টিস্যু কালচারের ছোট একটি চারা মাঠে রোপণের পর প্রায় এক বছরের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। রোগমুক্ত ও একই বৈশিষ্ট্যের চারা হওয়ায় কৃষকরা ভালো উৎপাদন পান এবং বাণিজ্যিকভাবে এ জাতের কলা চাষে লাভবান হচ্ছেন।
এনামুল ইসলাম আরও জানান, বর্তমানে প্রতিটি জি-নাইন কলার চারার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা। এ বছর সেন্টারে প্রায় ৪ হাজার চারা উৎপাদন করা হয়েছে। আগামী বছরে উৎপাদন ৩০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার চারা বিক্রি হয়েছে এবং মাঠে আরও কিছু চারা বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। দেশের প্রায় সব অঞ্চল থেকেই জি-নাইন কলার চারার চাহিদা আসছে। কুরিয়ার সার্ভিস কিংবা সরাসরি ক্রেতাদের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তে এসব চারা সরবরাহ করা হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে উৎপাদিত রোগমুক্ত ও মানসম্মত চারা ব্যবহারের ফলে কলার উৎপাদন বৃদ্ধি, বাগানের স্থায়িত্ব এবং কৃষকের লাভজনকতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। তাই জি-নাইন কলার পাশাপাশি অন্যান্য ফসলের টিস্যু কালচার চারার উৎপাদন ও ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।