
মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ টিলার উপর ব্যতিক্রমী ফলের বাগাম করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন রেজাউল করিম নামে এক শিক্ষক। তার বাড়ী মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সরিয়া গ্রামে। তার বাগানে দেশি-বিদেশি ৫০টিরও বেশি জাতের আমগাছ রয়েছে। চলতি মৌসুমে এর মধ্যে প্রায় ৩৭ জাতের আমগাছে থোকায় থোকায় ফল ধরেছে। নানা রং, আকার ও স্বাদের এসব আম দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বৃক্ষপ্রেমীরা।
জানা যায়, ২০১৭ সালে শখের বশে ভারত সহ দেশ-বিদেশ থেকে আমের চারা সংগ্রহ করে বাগান শুরু করেন ওই শিক্ষক। বর্তমানে তার বাগানটি দুই একর জমিতে নানা জাতের চারায় সমৃদ্ধ করে বিস্তৃত করেছেন। আরও নতুন জাত এই বাগানে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন বাগানের উদ্যোক্ত রেজাউল করিম।
তার বাগানে গিয়ে দেখা যায়,চারদিকে হরেক রকম ফলের গাছ। এখানে আলফানসো, আমেরিকান কেন্ট, হিমসাগর, চেংমাই, পাকিস্তানি চোষ, আমেরিকান পালমা, সামার বেহেস্ত, সূর্য ডিম, নাচ-১, নাচ-২, নাচ-৩, বৈশাখী, বান্দি নুড়ি, গৌরমতি, কটিমন, থাই কাছা মিটা, কুনাই, বাউ-৩, বারি-১১, নাম ডকমাই, হাড়িভাঙ্গা, ব্ল্যাকস্টোন, মহাচনক, কিউজাই, ব্রুনাই কিং, ব্যানানা, আম্রপালি, হানিডিউ, বারি-৪, ঝাই সাই, ন্যাম ডকমাই ইয়েলো, ন্যাম ডকমাই মুন, সীতাভোগ, অম্বিকা, ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড, অস্টিন, সাদা পুনাই, সি-মুয়াং ও সারেংগাসহ অসংখ্য জাতের আম গাছ। এসব গাছে এবার থোকায় থোকায় আম ধরে ঝুলে আছে।
ব্রুনাই কিং জাতের একটি আম ইতোমধ্যে প্রায় দুই কেজি ওজন হয়েছে, যা পাঁচ কেজি পর্যন্ত হতে পারে বলে রেজাউল করিম আশা করছেন।
বাগানজুড়ে শুধু আম নয়, রয়েছে ২০ জাতের আঙুর। ১০ জাতের কমলা,৭ জাতের ড্রাগন ফল, আফ্রিকান পিচ, তুর্কি মালবেরি, রামবুটান, ফিলিপাইন আখ, মিরাকেল বেরি, লুকাট, ত্বীন, সালাক, পার্সিমন, কাজুবাদাম, শরিফা, আতাফল, মালটা, নাশপাতি, ব্রাজিলিয়ান পেয়ারা, ব্ল্যাকবেরি, রোজ জাম, হানি কুমকোয়াটসহ অসংখ্য বিদেশি ফলের গাছ। রয়েছে ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা ‘হানি কাপোর্ড’ ও ‘চুপাচোপা’ ফল।
তিনি বাগানের একাংশে পরিবারের চাহিদা মেটাতে লাগিয়েছেন বিট, চাইনিজ গাজর, কালো টমেটো, লাল মুলা, স্ট্রবেরি টমেটো, চেরি টমেটো, ক্যাপসিকাম ও বিভিন্ন জাতের মরিচ।
বাগানের মালিক রেজাউল করিম জানান, বাগানে তিনি কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না। নিজেই জৈব সার তৈরি করে গাছে প্রয়োগ করেন। তার বাগানের উদ্দেশ্য বিষমুক্ত ফল উৎপাদন, পরিবারের চাহিদা পূরণ এবং দেশের মানুষের কাছে বিদেশি ফলের পরিচিতি বাড়ানো। তিনি এসব ফল বিক্রির চেয়ে আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের উপহার দিতেই বেশি আনন্দ পান।
বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত সপ্তাহেও আমি ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। এবার মোটামুটি ফলন ভালো হয়েছে। উনি তো শুধু বাংলাদেশ না বাইরের অনেক দেশ থেকে আমের জাত, চারা এনেছেন।‘বিদেশি জাতের চারা সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণে রেজাউল করিমের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি শৌখিন ফল চাষি হলেও এমন একজন উদ্যোক্তা সারা দেশের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘রেজাউলের মতো অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে মানুষরোগমুক্ত জীবনযাপন করতে করতে পারবে। আমরা এমন উদ্যমী উদ্যোক্তা খুঁজছি। কৃষি বিভাগ থেকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।’
কৃ/স/জয়