প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 12, 2026 ইং
মেঘনা চরের কৃষকদের স্বপ্ন এখন পানির নিচে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
টানা বৃষ্টি আর মেঘনার পানিতে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে উপকূলীয় চরাঞ্চলের তিনশ' হেক্টর জমির আমন,আউশ ধান বীজ, পান ও সবজি তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকরা চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী আরও কয়েক দিন এমন ভারি বৃষ্টি থাকবে। আর বৃষ্টির এমন ধারাবাহিকতায় বড় ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে মেঘনা উপকূলীয় চরাঞ্চলের আমন ও আউশ ধানের বীজতলা ও পানসহ সবজি উৎপাদনে। আবার বৃষ্টির সঙ্গে রয়েছে বজ্রাঘাতে মৃত্যুর ঝুঁকি। সব মিলিয়ে উপকূলীয় কৃষকদের চোখে-মুখে এখন হাহাকার।
এছাড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের (উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী, উত্তর চরআবাবিল ও দক্ষিণ চরআবাবিল) দশটি গ্রাম ও বেরিবাঁধে পশ্চিম এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রাস্তাঘাট, বাজারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ডুবে গেছে।
মেঘনার চরকাছিয়া চরে পানিতে তলিয়ে গেছে উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের কৃষক মিলন মিয়ার সারা বছরের স্বপ্ন। তিনি এবার ৬ একর জমিতে আমন ধানের বীজ বপন করেছিলেন। তা এখন মেঘনার করাল গ্রাসে নিমজ্জিত। বীজতলাগুলো তা আজ পচা পানির নিচে ডুবে আছে। বুক সমান পানিতে নেমেও শেষ রক্ষা হয়নি। প্রশাসনের কাছে এ বিশাল আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আর্থিক প্রণোদনা ও সহযোগিতা চেয়েছেন কৃষক মিলন মিয়া।
চরআবাবিলের কৃষক আবদুল জলিল মিয়া। তিনি এবার দেড় একর জমিতে এবার পান চাষ করেছিলেন। টানা বৃষ্টিতে তার পানের বরজ সব নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে বিক্রির কোনো উপায় নেই। এদিকে মাথার উপর রয়েছে তার ঋণের বোঝা। কীভাবে এতসব সামলাবেন তিনি তা ভেবেই কুল-কিনারা পাচ্ছেন না। তার মতো অনেক কৃষকের একরের পর একর বীজ ও পান পানিতে তলিয়ে গেছে।
ওায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম জানান, মেঘনার চরাঞ্চলে আবাদ করা ৩শ হেক্টর জমিতে আমন ও আউশ ধানের বীজতলা, ৩শ হেক্টর জমিতে সবজি ও আড়াইশ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কারও কিছুই করার থাকে না। যদি আবহাওয়া ভালো হয় তাহলে সয়াবিন ও পান তুলতে পারবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়