প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 12, 2026 ইং
আখের ভাল ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই

নিলফামারী প্রতিনিধিঃ ভাল ফলনেও হাসি নেই নিলফামারীর আখ চাষীদের মুখে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, রোগবালাইয়ের প্রকোপ, বাজারমূল্যের অস্থিরতা এবং সরকারি প্রণোদনার অভাবে ন্যায্যমূল্য পাওয়া না পাওয়ার শঙ্কা তাদের। চাষীরা বলছেন,এমন হলে আগামীতে এ চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে বেশিরভাগ চাষী।
জানা যায়,চলতি মৌসুমে এ জেলায় ১৭৭ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় যা অনেক বেশি। সদর, কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলায় বিশেষ করে ঈশ্বরদী-১৬, ঈশ্বরদী-১৭ এবং বিএসআরআই-৪১, ৪৫ ও ৪৭ জাতের আখের আবাদ বেশি হয়েছে।
তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এবার বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। কীটনাশক প্রয়োগ করেও অনেক ক্ষেত্রে রোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, যার ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং লাভের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।
নীলফামারী সদর উপজেলার চাষী কৃষক শিখনাথ রায় জানান, তিনি ১৫ শতাংশ জমিতে আখের আবাদ করেছেন। লাভজনক হওয়ায় আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে আখ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার। তবে সময়মতো রোগবালাই দমনের ওষুধ প্রয়োগ না করলে পচন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বসুনিয়া বাজার এলাকার কৃষক ধীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ছোটবেলা থেকেই সঠিক পরিচর্যা করলে আখে রোগবালাই কম হয়। প্রতি বিঘায় আগে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও বর্তমানে সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়া হলে কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন এবং আখ চাষে আরও আগ্রহী হবেন।
নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হোমায়রা বলেন, কিশোরগঞ্জ, জলঢাকা ও সদর উপজেলার মাটি আখ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার উৎপাদিত আখ রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় দেশের বাজারে এর চাহিদাও ব্যাপক। আমাদের বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা দিতে কৃষি বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়