প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 8, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 8, 2026 ইং
গৌরীনাথপুর আড়তে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে কোটি টাকার ড্রাগন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর আড়তে এখন প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে কোটি টাকার ড্রাগন ফল। এই ফল কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে শতাধিক পাইকারী আড়ত। প্রতিদিন দেশের দুর-দুরান্ত থেকে ফল কিনতে আসছে পাইকাররা। এই আড়তে কর্মসংস্থান হয়েছে হাজারো মানুষের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ঝিনাইদহ জেলায় ড্রাগন ফলের চাষাবাদ ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাল লাভবান হওয়ায় দ্রুত এ ফল চাষাবাদের পরিধি বাড়ছে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে ঝিনাইদহ জেলায় ১ হাজার ১২৯ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের আবাদ হয়েছে। এতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার ১৮২ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৫ হেক্টর, কোটচাঁদপুরে ৪৩৯ হেক্টর, মহেশপুরে ৩১৬ হেক্টর, কালীগঞ্জে ৩২৮ হেক্টর, হরিণাকুণ্ডুতে ৬ হেক্টর এবং শৈলকুপায় ১৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ হয়েছে।
চাষীদের এই ফল কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে মহেশপুর উপজেলার গৌরীপুর বাজারে গড়ে উঠেছে বিশাল ড্রাগন ফলের আড়ত। আড়তের শতাধিক মহাজনের ঘরে লাল, গোলাপি ও হলুদ রঙের ড্রাগন ফলের স্তূপ করে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাষীরা তাঁদের উৎপাদিত ড্রাগন ফল আড়তে নিয়ে আসছেন। এখানে কর্মচারীরা ফল বাছাই, ওজন ও প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে বাজারে প্রায় ১০০টি আড়তে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ড্রাগন ফল কেনাবেচা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে সরাসরি কৃষক ও আড়তদারদের কাছ থেকে পছন্দের ফল সংগ্রহ করেন। এরপর ট্রাকযোগে এই ফল ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি পাঁচ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করেছি। জমি থেকে ফল তুলে সহজেই এই বাজারে বিক্রি করতে পারি। এতে পরিবহন ব্যয় কমে গেছে, পাশাপাশি ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও কমেছে।’
আড়তদার সাইদুর রহমান বলেন, ‘মৌসুমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ড্রাগন ফল বাজারে আসে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে সরাসরি ফল কিনে নিয়ে যান। কৃষকেরাও ভালো দাম পান।’
বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী সাঈদ সরকার বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বেচাকেনা হয়। এখানকার ফল দেশের বিভিন্ন বড় শহরে সরবরাহ করা হয়। ফলের আকার ও মানভেদে দাম নির্ধারণ করা হয়।’
মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ‘নিরাপদ ড্রাগন ফল উৎপাদনে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিকর রাসায়নিকের অপব্যবহার রোধ এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।’ ড্রাগন ফল চাষাবাদে স্থানীয় কৃষকরা যেমন লাভবান হচ্ছেন,তেমনি বিক্রির আড়তেও কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক মানুষের।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়