প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 8, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 8, 2026 ইং
লটকন চাষে সফল হাফেজ রোকনউদ্দিন

ভালুকা (ময়মসসিংহ) প্রতিনিধিঃ লটকন ফল চাষাবাদে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন মো.রোকন উদ্দিন নামে এক মসজিদের ইমাম। তার বাড়ী ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার নয়নপুর গ্রামে। বর্তমানে তিনি প্রায় চার বিঘা জমিতে দুটি বাগানে লটকন চাষাবাদ করেছেন। এখান থেকে পাশাপাশি উন্নত জাতের কলম উৎপাদন করে তিনি লাভজনক ব্যবসা গড়ে তুলেছেন।
জানা যায়,রোকনউদ্দিন একসময় দেশের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় ইমামতি করতেন । এ পেশায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গাছ লাগানোর শখ থেকেই শুরু হয় তার কৃষি-যাত্রা। এরপর ২০১৮ সালে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা থেকে ৩০টি লটকন চারা সংগ্রহ করে প্রথম বাগান করেন। পরর্বতীতে তিনি পুরোনো বাগানসহ প্রায় ২০০টি গাছ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু করেন।
ভালুকা উপজেলার নয়নপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রোকনউদ্দিনের বাগানে ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে সারি সারি লটকনগাছ। মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা বাগানে এসে ফল কিনছেন। প্রতি মণ লটকন ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চলতি মৌসুমের শুরুতেই প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি বাগানের লটকনও পাইকারিভাবে কিনে বাজারজাত করছেন। প্রতিদিনই কৃষক ও নতুন উদ্যোক্তারা তাঁর বাগান পরিদর্শনে আসছেন।
শুধু লটকন গাছ থেকে ফল সংগ্রহই নয়। তিনি এই গাছ থেকে কলম করার কৌশল শেখেন। ভালো ফলনশীল গাছ নির্বাচন করে নতুন কলম তৈরি করি করেন। বর্তমানে তার বাগানের উন্নত জাতের এক বছরের কলম ১০০ টাকা এবং দেড় থেকে দুই বছরের কলম ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষক ও উদ্যোক্তারা নিয়মিত এসব কলম সংগ্রহ করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি লটকন নিয়ে গবেষনা করেন এবং প্রায় ১০ টি জাত নিয়ে কাজ করছেন।
লটকন চাষ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি তুলনামূলক কম পরিচর্যার ফসল। উন্নত জাতের কলম রোপণের চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ফল আসে। গাছ যত বড় হয়, ফলনও তত বাড়ে। তবে পতিত বা অনাবাদি জমিতে লটকনের বাগান করলে বেশি লাভবান হওয়া যায়। বাণিজ্যিকভাবে টব বা ছাদে এ চাষ উপযোগী নয়।
ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, হাফেজ রোকনউদ্দিন মানসম্মত চারা উৎপাদন ও বিক্রি করছেন। এভাবে উন্নত জাতের কলমের মাধ্যমে নতুন বাগান গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে ভালুকার লটকন দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানিরও সম্ভাবনা তৈরি করবে।’‘ভালুকার ডাকাতিয়া, মল্লিকবাড়ি ও কাচিনা ইউনিয়নে ভালো মানের লটকন উৎপাদন হয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়