প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 7, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 7, 2026 ইং
উল্লাপাড়ায় থাই পেয়ারা চাষে স্বাবলম্বী আয়নুল

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বারো মাসি থাই পেয়ারা চাষে ভ্যঅপক সাফল্য অর্জন করেছেন মো.আইনুল। তার বাড়ী পৌর শহরের উল্লাপাড়া মহল্লায়। তিনি প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে নার্সারী ব্যবসার সাথে জড়িত। তার পেয়ারা চাষের সাফল্য অন্যদের আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়,পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন ফল বাগান করার জন্য দু’দিনের ট্রেনিং দেয়। পাশাপাশি তাকে পেয়ারা বাগান করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। এরপর সে ৮২ শতক জমিতে পেয়ারা বাগান করার উদ্যোগ নেন। তাকে এ চাষাবাদের জন্য স্থানীয় এনজিও পিপিডি বারো মাসি থাই গোল্ডেন-৮ জাতের ৫শ’৫০টি পেয়ারা চারা, জৈব ও রাসায়নিক সার, বালাইনাশক ও হলুদফাদসহ অন্যান্য উপকরণ দেওয়া হয়।
আয়নুল জানান, প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে প্রথম বছরেই বাগান থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রি করেছি। শীতকালে এর ফলন আরো ভালো হয়। একটি গাছে প্রায় ২০-২৫টি ফল ধরে। এই পেয়ারা খেতে অনেক সুস্বাদু ও মিষ্টি এবং ফলের বিচি অনেক কম। তিনটি পেয়ারা প্রায় ১ কেজি হয় এবং অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখা যায়। প্রত্যেকটি পেয়ারা পলি ব্যাগ দিয়ে বেঁধে রাখা হয় ফলে পোকামাকড় ও রোগবালাই অনেক কম হয়। বাজারে এ পেয়ারার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারীরা বাগানে পেয়ারা ক্রয় করার জন্য আসছে এবং যোগাযোগ রাখছেন।
আইনুল উল্লেখ করেন,এই বাগানের গাছগুলো কমপক্ষে ১০ বছর ফলন দিবে। এতে তার খরচ বাদে ১০ বছরে এ বাগান থেকে অনেক টাকা আয় হবে বলে তিনি আশাবাদী। বারো মাসি হওয়ায় সারা বছরই পেয়ারা বিক্রি করা যাবে।
পিপিডি’র কৃষি কর্মকর্তা অনুপ কুমার ঘোষ জানান, উল্লাপাড়া উপজেলায় ফলবাগান নেই বললেই চলে, তবে পিপিডি সংস্থা ফল বাগান স্থাপনে বিভিন্ন তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করছে। বর্তমানে এ উপজেলায় দুইটি থাই গোল্ডেন-৮ পেয়ারার বাগান রয়েছে। থাই গোল্ডেন-৮ পেয়ারার চারা রোপণের আট মাসের মধ্যে ফলন দেয় এবং ফলন তুলনামূলক অনেক বেশি পাওয়া যায়। এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়