প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 4, 2026 ইং
হাঁস খামারে দুই বন্ধুর আয় ৩০ লাখ টাকা

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ
হাঁস পালনে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে দুই বন্ধু । তারা মাত্র ৪০টি হাঁস দিয়ে খামার শুরু করে তিন বছরের ব্যবধানে গড়ে তুলেছেন বিশাল হাঁসের খামার। পাশাপাশি হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে বিক্রি করছেন। যেখান থেকে তারা এখর বছরে আয় করছেন ২৫ থেকৈ ৩০ লাখ টাকা। যা অবাক করেছে অন্যদের। সফল এই দুই বন্ধুর নাম আব্দুল মজিদ ও নজরুল ইসলাম। তারা ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার কেষ্টপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়,এই দুই বন্ধু মাত্র বছর আগে ৪০টি হাঁস নিয়ে যৌথভাবে খামার শুরু করেন। শুরুতে তারা অনেক সমস্যায় পড়েন। এরপর তারা একসাথে পুুকুরে মাছ এবং হাঁস পালন শুরু করেন। পরর্বতীতে হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো শুরু করেন। বাড়তে থাকে তাদের খামারের পরিধি। পুকুরে হাসের বিষ্ঠায় মাছের খাবার আর ডিম বিক্রির আয়ে বাড়তে থাকে তাদের খামারের পরিধি। পরর্বতীতে তারা বাণিজ্যিকভাবে হাঁসের ডিম থেকে ইনকিউবেটরের সাহায্য বাচ্চা ফুটিয়ে বিক্রি শুরু করেন। আর বিশাল পুকুরে হাজার হাজার হাঁস পালন করছেন। হাঁসের ডিম,বাচ্চা বিক্রি,পুকুরে মাছ চাষের টাকায় এখন তারা স্বাভলম্বী। এই দুই বন্ধু এখন খামারের মাধ্যমে বছওে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা আয় করছেন।
দুই খামারির সাফল্যে উৎসাহিত হচ্ছে আশপাশের মানুষ। ফলে বেকারত্ব দূর করে অনেক পরিবারের জন্য তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান ও নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। তাদের খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে স্থানীয় বেশ কয়েক জনের।
খামারের কর্মচারী আবু বক্কর বলেন, আমি ২ বছর ধরে এই খামারে কাজ করি। আমার মতো আরও ৫ জন আছে। হাঁসগুলোকে খাবার দেওয়া, ডিম তোলা, বিষ্ঠা পরিষ্কার করার কাজগুলো করতে হয়। প্রথমে আমাকে মাসে ৭ হাজার টাকা করে দিত। কয়েক মাস আগে আমার বেতন বাড়ায় এখন ১২ হাজার টাকা করে দিছে। এতে আমার সংসার ভালোই চলে।
খামারের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, শুরুতে লস হয়েছে। কারণ হাঁসের খামারের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তার পর আস্তে আস্তে বিভিন্ন জায়গায় ট্রেনিং নিছি। কীভাবে হাঁসের খামারের পাশাপাশি মাছ চাষ করা যায়, বাচ্চা ফোটানো যায়। এখন আমরা সাকসেস। কোনো সমস্যা নেই আমাদের খামারে। এই খামারে কাজ করে অনেকের কর্মস্থান হয়েছে।
এখন আমাদের খামারে গড়ে প্রতিদিন ৬ জন কাজ করে। প্রতি মাসে তাদের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতন দিতে হয়। অনেক দূর থেকে মানুষ দেখতে আসে, তারাও খামার করতে চায়। আমরা তাদের পরামর্শ দেই এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেই। আমরা চাই বেকারত্ব দূর হোক।
আরেক খামার মালিক আব্দুল মজিদ বলেন, ৩ বছর আগে মাত্র ৪০টা হাঁস দিয়ে ২ বন্ধু খামার শুরু করি। শুরুতে অনেক সমস্যায় পড়ছি। লাভ কম হতো। হাঁস বিভিন্ন রোগে মারা যেত। কীভাবে কি করতে হবে জানা ছিল না। এখন আমাদের খামারে কয়েক হাজার হাঁস। পাশাপাশি পুকুরে মাছ চাষ করছি। ডিম দিয়ে বাচ্চা ফোটানোর কাজ করছি। এখন প্রতি বছরে ২৫-৩০ লাখ টাকা ইনকাম আমাদের। মাঝে মাঝে উপজেলা পানিসম্পদ কর্মকর্তা আসেন বিভিন্ন পরামর্শ দেন। এখন খামারে কোনো সমস্যা নেই আমাদের।
পীরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা ২ বন্ধুর খামার নিয়মিত পরিদর্শন করি। নানা রকম পরামর্শ তাদের দিয়ে থাকি। তারা সফল, তাদের সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের হাঁস ও প্রয়োজনীয় টিকা, সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। এতে অধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। হাঁস পালন এখন শুধু বাড়তি আয় নয়, এটি অনেক পরিবারের জন্য হয়ে উঠেছে নতুন কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনেতিক সম্ভাবনার গল্প।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়