প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 4, 2026 ইং
মহাস্থান হাটে সবজির দামে ধস

বগুড়া সংবাদদাতাঃ
বড় সবজির মোকাম হিসাবে পরিচিত বগুড়ার মোকাম তলা আড়তে নতুন ওঠা সবজির দামে কমেছে। এ আড়তে । প্রতি কেজি মুলা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ টাকা, ফুলকপি ১৫-২০ টাকা। উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে এখন দিশেহারা সবজিচাষিরা। চাষীরা বলছেন, এসব সবজি ফলাতে তাদের তারা চড়া দামে সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি ব্যায় করতে হয়েছে। কিন্তুসেই ফসল হাটে নিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দামে। এতে তারা ক্ষীতর শিকার হচ্ছেন।
মহাস্থান সবজি আড়ত ঘুরে দেখা যায়, রোববারের পাইকারি বাজারদর অনুযায়ী প্রতি কেজি গাজর ১১০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, মিষ্টি লাউ ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৩০ টাকা, শসা ২৫ টাকা, আলু ২০ টাকা ও পেঁপে ১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রতি হালি লেবু ২০ টাকা এবং প্রতি পিচ বাঁধাকপি ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বাজারে অন্যান্য সবজির তুলনায় মুলা ও ফুলকপির দাম কম থাকায় বেশি হতাশ এসব সবজির চাষিরা। তাদের আশঙ্কা, উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রিমূল্যের এমন অসামঞ্জস্য চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক সবজি চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন।
মোকামতলা এলাকা থেকে মহাস্থান হাটে ফুলকপি বিক্রি করতে আসা কৃষক নাসির উদ্দিন তারেক জানান, কম দামে সবজি বিক্রির পাশাপাশি ওজনের ক্ষেত্রেও তাদের ঠকতে হচ্ছে।
আগে ৪০ কেজিতে এক মণ হিসাব করা হলেও বর্তমানে হাটে এক মণ সবজি দিতে হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ কেজি। অর্থাৎ প্রতি মণে অতিরিক্ত ২ থেকে ৪ কেজি সবজি দিতে হচ্ছে তাদের। এতে কম দামে ফসল বিক্রির পর ওজনের হিসাবেও লোকসান গুনতে হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সার ও কীটনাশকের চড়া দামসহ উৎপাদন খরচ বিবেচনায় এ দামে সবজি বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনও উঠছে না।
অতিরিক্ত ওজন নেওয়ার বিষয়ে রফিক নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, কাঁচা সবজি পরিবহন ও সংরক্ষণের সময় শুকিয়ে ওজন কমে যায়। সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিতেই অতিরিক্ত সবজি নেওয়া হয়।
কৃষকেরা জানান, জমি তৈরি থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই তাদের খরচ করতে হয়। সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ ব্যয় দিন দিন বেড়েই চলছে। এরপর সেই ফসল বাজারে নিয়ে আশানুরূপ দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়