প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 3, 2026 ইং
নীলফামারীতে বাড়ছে মাল্টা চাষে

নীলফামারী সংবাদদাতাঃ
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় দ্রুত বাড়ছে মাল্টা চাষাবাদ। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠছে নতুন নতুন বাগান। ফসল চাষাবাদের বাইরে মাল্টা বাগান করে লাভের স্বপ্ন দেখছে চাষীরা।
ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক সময় শুধু ফসল চাষাবাদ হতো। নানা দুর্যোগের এ চাষাবাদে তারা ক্ষতির শিকার হন। এ উপজেলায় কয়েকজন চাষী প্রথম শুরু করেন মাল্টা চাষাবাদ। এতে তারা ভাল ফলন এবং লাভবান হন। যা দেখে অন্য চাষীরা মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এখন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ফসল চাষের পাশেই দেখা মিলছে মাল্টা বাগান। যেখানে উৎপাদন হচ্ছে ভাল মানের রসানো মাল্টা। যার চাহিদা এখন দেশজুড়ে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রচলিত বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন খরচ দিন দিন বাড়লেও অনেক সময় সে অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যায় না। ফলে বাড়তি আয়ের আশায় কৃষকেরা এখন লাভজনক ফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন, যার মধ্যে মাল্টা চাষ অন্যতম। পাশাপাশি, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত টাটকা ও পুষ্টিকর ফলের প্রতি ক্রেতাদের বাড়তি আগ্রহ থাকায় বাজারেও এর দারুণ চাহিদা রয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাল্টা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও লাভজনক ফলদ ফসল। সঠিক জাত নির্বাচন, মানসম্মত চারা রোপণ, নিয়মিত পরিচর্যা, সুষম সার প্রয়োগ, সময়মতো রোগবালাই দমন এবং পরিমিত সেচ নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে মাল্টা চাষ আরও বহুগুণ সম্প্রসারণ করা সম্ভব। তা ছাড়া, মাল্টা বাগানের ফাঁকা জায়গায় সাথী ফসল চাষ করলে কৃষকেরা মূল ফলন পাওয়ার আগেই বাড়তি অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করতে পারেন।
উপজেলার সুন্দরখাতা এলাকার উদ্যমী কৃষক নুর আলম ৬৫ শতাংশ জমিতে বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। তাঁর বাগানে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলছে অসংখ্য মাল্টা। বর্তমানে ফলন সংগ্রহ ও গাছের পরিচর্যা নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। শুধু এককভাবে মাল্টা চাষেই সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি বাগানের ফাঁকা জায়গা অত্যন্ত সুচারুভাবে কাজে লাগিয়ে সাথী ফসল ও সুপারির চারা রোপণ করেছেন। এর ফলে একই জমি থেকে একাধিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে তাঁর দ্বিগুণ আয়ের পথ সুগম হয়েছে। সফল এই কৃষক জানান, তাঁর মাল্টা বাগান থেকে বর্তমান বাজারে বছরে প্রায় চার লাখ টাকা আয় হচ্ছে। উৎপাদিত মাল্টা তিনি স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
কৃষক নুর আলম জানান,মাল্টার পাশাপাশি বাগানের ফাঁকা জায়গায় সাথী ফসল ও সুপারির চারা লাগিয়ে বাড়তি আয়ও নিশ্চিত করেছি। আমি বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ করেছি, যা ফলন ও বাজারে চাহিদার দিক দিয়ে অত্যন্ত চমৎকার। প্রতি কেজি মাল্টা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও আমরা নিয়মিত সুপরামর্শ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাচ্ছি।
অনেক চাষী এখন মাল্টা বাগান করে ভাল টাকা আয় করছেন। যার মাধ্যমে তাদের সংসাওে সচ্ছলতা এসছে। এখনাকর উৎপাদিত মাল্টা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ জেলায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না বলেন,ডিমলা উপজেলার মাটি প্রাকৃতিকভাবেই বেলে-দোআশ এবং তুলনামূলক উঁচু। এখানকার মাটিতে পিএইচের মাত্রা কিছুটা কম থাকায় এতে সামান্য অ্যাসিডিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা মাল্টা ও কমলার মতো পুষ্টিসমৃদ্ধ ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বারি-১ জাতের মাল্টা অত্যন্ত সুস্বাদু ও লাভজনক হওয়ায় বাজারে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাল্টা চাষে আগ্রহী সব কৃষককে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া অব্যাহত রয়েছে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়