প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 3, 2026 ইং
সামাউলের ২২ একরের লেবু বাগান

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
গোপালগঞ্জের লেবু চাষাবাদে বাজিমাত করেছেন সামাউল ইসলাম নামে এক উদ্যোক্তা। এক দুই বিঘা নয়। তিনি গড়ে তুলেছেন ২২ একরের লেবু বাগান। যেখানে রয়েছে প্রায় ১২ হাজার বীজহীন লেবু। এখানকার উৎপাদিত লেবু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে সারা দেশে। লেবু বিক্রি করে উদ্যোক্তা বছরে আয় করছেন অর্ধকোটি টাকা। যার মাধ্যমে তিনি সচ্ছলতা অর্জন করেছেন।
জানা যায়,৬বছর আগে এ উদ্যোক্তা জমি লিজ নিয়ে লেবু চাষাবাদ শুরু করেন। প্রথমে তিনি আড়াই একর জমিতে এ চাষাবাদ করেন। নিজের শ্রম আর মেধা কাজে লাগিয়ে লেবু চাষাবাদে তিনি বাজিমাত করেন। এই বাগান থেকে ভাল লাভ করায় ধীরে ধীরে লেবু বাগানের পরিধি বাড়ান। এখন তিনি মোট ২২ একর জমিতে বীজহীন লেবু চাষাবাদ করছেন। যেখানে রয়েছে ১২ হাজার লেবুগাছ। তার বাগানের প্রতিটি গাছে ধরেছে প্রচুর লেবু।
থোকায় থোকায় ঝুলছে লেবু। বছরজুড়ে বাগান থেকে লেবু তুলে বিক্রি করছেন সামাউল। যেখান থেকে আয় করছেন প্রতি বছর প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে তিনি নিজের অভাব হটিয়ে এখন সচ্ছল স্বাভলম্বী হয়েছেন। তার লেবু বাগানে কাজ করছেন স্থানীয় ২৫ জন শ্রমিক কর্মচারী।
সামাউলের বাগানের লেবুর বিশেষত্ব হলো, এতে বীজ নেই, রস বেশি এবং সুগন্ধ ভালো। সারা বছর ফলন পাওয়া যায় বলে বাজারেও এর চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে ফাল্গুন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে লেবুর চাহিদা বেড়ে যায়। লেবু বিক্রির জন্য তাকে দূরের বাজারে ছোটাছুটি করতে হয় না। পাইকাররা সরাসরি বাগানে এসে লেবু কিনে নেন। পরে গোপালগঞ্জ, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে তা বিক্রি করেন। লেবু চাষে সামাউলকে চারা, সার, ছত্রাকনাশক, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গোপালগঞ্জ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।
উদ্যোক্তা সামাউল জানান,আমার ধ্যান জ্ঞান এখন লেবু বাগান। এটি অনেক কষ্টে গড়ে তুলেছি। এর ম্যধমে এখন আমি অনেক টাকা আয় করতে পারছি। তিনি উল্লেখ করেন বাগানের লেবু বিক্রির জন্য কোন কষ্ট পেতে হয় না। বাগান থেকেই পাইকাররা লেবু কিনে নিয়ে যায়। তার মতে বেকার যুবকরা এ চাষাবাদে যুক্ত হয়ে ভাল টাকা আয় করতে পারেন।
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মামুনুর রহমানের বলেন, ফল চাষ কৃষকদের সারা বছর আয়ের সুযোগ তৈরি করে। সামাউলের সাফল্য দেখে মুকসুদপুর ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১০টি বাণিজ্যিক লেবু বাগান গড়ে উঠেছে। তার আশা, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে লাভজনক ফল চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়