প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 3, 2026 ইং
কৃষি জমির মাটি বিক্রি,ঘের তৈরির অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
কিশোরগঞ্জের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তিন ফসলি কৃষি জমিতে মাছের ঘের তৈরি করা হচ্ছে। আর ঘেরের সেই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। এতে কমছে চাষাবাদের জমি। একই সাথে এই মাছের ঘেরের বিশাল বাঁধের কারনে বিলাঞ্চলের কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন চাষীরা। সদর উপজেলার গোয়ালাপাড়া গ্রামের মেঘনা বিলে চলছে ঘের তৈরি ও মাটি বিক্রি।
জানা যায়, সদর উপজেলার বৌলাই,দক্ষিণ ভরাটি ও গোয়ালাপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মেঘনা বিলের অবস্থান। বিলের ফসলি জমির ওপর নির্ভরশীল এলাকার অসংখ্য কৃষক ও দিনমজুর। বংশপরম্পরায় এসব জমিতে আমন-বোরো ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। কিন্তু হটাও এই বলের জমিতে মাছের ঘের তৈরি করা হচ্ছে। একটি প্রভাবশালী মহল বিপুল পরিমাণ কৃষি জমি লিজ নিয়ে সেখানে মাছ চাষাবাদের জন্য ঘের তৈরি করছেন। এ জন্য জমি থেকে মাটি কেটে বড় বড় বাঁধ তৈরি করছেন। এক সাথে ইটভাটায় উর্বর মাটি বিক্রি করছেন। এতে চাষাবাদের জমি ফসল উৎপাদন ক্ষমতা হারাচ্ছে। এ মাছের ঘেরের কারনে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ বিলের সঙ্গে দাসপট্টিল, ছাইহাই, মাগুরয়া ও দারিচুরা বিলের পানির সংযোগ রয়েছে। আশপাশের এসব বিলের পানি মেঘনা বিলের মধ্য দিয়ে নিষ্কাশিত হয়। ফলে এখানে দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করে পানিপ্রবাহ সংকুচিত বা বন্ধ করা হলে পাঁচটি বিলের বিপুল পরিমাণ বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। এতে আমন ও বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষিজমি ও বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, আগেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনসংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত করা হলেও সম্প্রতি আবারও মাটি কাটা ও মাছের ঘের তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, গোয়ালাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সাদ্দাম হোসেন নিজের জমির পাশাপাশি অন্যের জমি লিজ নিয়ে মাছ চাষের জন্য ঘের তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। এ উদ্দেশ্যে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘেরের চারপাশে দীর্ঘ মাটির বাঁধ নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। মেঘনা বিল কেবল কৃষিকাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি আশপাশের এলাকার পানি নিষ্কাশনেরও অন্যতম পথ। এ বিলের সঙ্গে দাসপট্টিল, ছাইহাই, মাগুরয়া ও দারিচুরা বিলের পানির সংযোগ রয়েছে। আশপাশের এসব বিলের পানি মেঘনা বিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিষ্কাশিত হয়। ফলে এখানে দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করে পানিপ্রবাহ সংকুচিত বা বন্ধ করা হলে পাঁচটি বিলের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। এতে আমন ও বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ রাসেল বলেন, এখানে মাছের ঘের করা হলে আশপাশের কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিছুদিন আগে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় স্থানীয়রা নিজেরাই কোদাল দিয়ে বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছিলেন। এরপর কোনো রকমে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এখন আবার বাঁধ নির্মাণ করে মাছের ঘের করা হলে কৃষকদের ফসল ফলানোর সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসবে। আশপাশের বিভিন্ন জমি ও এলাকার পানি চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। বাঁধ নির্মাণ হলে পানি আটকে গিয়ে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কৃষিজমি ও বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
আরেক কৃষক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, তাদের বাপ-দাদারা দীর্ঘদিন ধরে এসব জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। তারাও সেই ধারাবাহিকতায় কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু এখন জমিগুলোতে মাছের ঘের করার উদ্যোগ নেওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। মাটির বাঁধ নির্মাণ করা হলে বাঁধের উজানে থাকা জমিগুলোতে পানি আটকে থাকবে। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। গত বছরও বৃষ্টির পানিতে অনেক জমির ধান নষ্ট হয়েছে। নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। কৃষিজমি রক্ষা করা না গেলে এলাকার কৃষকরা জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।
বিসয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকরা উপজেলা প্রমাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এখন আবার ঘের তৈরির কাজ চলছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়