প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 31, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 31, 2026 ইং
ছয় গ্রামে শতকোটি টাকার লেবু বেচাকেনা

ময়মনসিংহ সংবাদদাতাঃ
একটি দুটি নয়। ছয়টি গ্রামে মাঠে থেকে কৃষকের বাড়ির আঙ্গিনায় চাষাবাদ হচ্ছে লেবু। লেবুই এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল। এই লেবু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে সারা দেশে। যা বিক্রি করে এক মৌসুমেই এসব গ্রাম থেকে প্রায় শতকোটি টাকা আয়ের আশা করছে কৃষি বিভাগ। লেবু চাষাবাদ হবার কারনে এসব গ্রাম পরিচিতি পেয়েছে লেবুর গ্রাম হিসাবে। ব্যাপকভাবে এমন লেবু চাষাবাদ হচ্ছে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নে।
উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের ৬টি গ্রামে এখন বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষাবাদ করছেন চাষীরা। এসব গ্রামে মাঠের পর মাঠ জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে লেবু বাগান। ফসলের মাঠ থেকে কৃষককের বাড়ির আঙ্গিনায় লেবু চাষাবাদ হচ্ছে। লেবুই এখানকার চাষীদের প্রধান অর্থকরী ফসল।
এখানকার কয়েকজন চাষী প্রথমে এই চাষাবাদ শুরু করেন। তাদের দেখাদেখি ছড়িয়ে পরে এ চাষাবাদ। লাভজনক হবার কারনে অন্যরাও এ চাষাবাদে যুক্ত হন।
জানা যায়,ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ৭৫৪ দশমিক ৮ হেক্টর জমিতে লেবুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এনায়েতপুর ইউনিয়নেই রয়েছে ৫৫০ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে কলম্বো জাতের লেবু গড়ে ৫৬০ বস্তা উৎপাদিত হয়। সে হিসাবে ৪৫৩ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮০ বস্তা। প্রতি বস্তার গড় দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা ধরলে এ জাতের লেবু বিক্রি থেকে আয় হতে পারে প্রায় ৬৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা। সিডলেস জাতের লেবু প্রতি হেক্টরে গড়ে ৫০০ বস্তা উৎপাদিত হলে ২৮৩ হেক্টরে উৎপাদন দাঁড়ায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ বস্তা। প্রতি বস্তার গড় দাম ২ হাজার ২০০ টাকা ধরে এ জাত থেকে আয় হতে পারে প্রায় ৩১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। কাগজি লেবু থেকে সম্ভাব্য আয় প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এসব হিসাবের ভিত্তিতে কৃষি বিভাগ চলতি মৌসুমে উপজেলায় লেবু বিক্রি থেকে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা দেখছে। বাজারদর ভালো থাকলে মোট বিক্রি ১০০ কোটি টাকা হতে পারে।
এনায়েতপুর ইউনিয়নে লেবু চাষের বিস্তার ঘটেছে কৃষকদের সাফল্যকে কেন্দ্র করে। শুরুতে কয়েকজন কৃষক বাণিজ্যিকভাবে লেবুর বাগান গড়ে তোলেন। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও এ চাষে যুক্ত হন।
সোয়াইতপুর গ্রামের কৃষক মাসুদ তালুকদার তিন বছর আগে ছয় একর জমিতে সিডলেস ও কলম্বো জাতের লেবুর বাগান করেন। গত মৌসুমে তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেছেন। এবার বাজারদর ভালো থাকলে বিক্রির পরিমাণ ৩০ লাখ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। এই চাষীর মতো অন্যরাও লেবু চাষাবাদে এখন ভাল টাকা আয় করছেন। যার মাধ্যমে অনেকেই এখন সচ্ছল স্বাবলম্ভী।
কৃষকদের লেবু উৎপাদন এবং বিক্রি কে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে হাট। হাট সহ বাগান থেকেই চড়া দামে লেবু বিক্রি করেন চাষীরা। প্রতিদিন এনায়েতপুরের লেবুর হাটে বিক্রি হচ্ছে ২০-২২ লাখ টাকার লেবু। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারদর অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে উপজেলায় লেবু বিক্রির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধরের ভাষায়, উপজেলায় এবার লেবুর ফলন ভালো হয়েছে। তার ধারণা, বাজারদর অনুকূলে থাকলে কৃষকরা প্রায় ১০০ কোটি টাকার লেবু বিক্রি করতে পারবেন।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়