প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 30, 2026 ইং
বারোমাসি শজনে চাষে লাখ টাকার স্বপ্ন

যশোর সংবাদদাতাঃ
বারোমাসি সজনে চাষাবাদে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন আক্তার হোসেন নামে এক কৃষক। তিনি ধান, পাট ও গম চাষ করে আশানুরূপ লাভ না হওয়ায় বিকল্প ফসস হিসাবে এ চাষাবাদে লাভের মুখ দেখেছেন। ইতোমধ্যে সজনে বিক্রি করে তিনি ভাল টাকা আয় করেছেন। এক বিঘা জমিতে তিনি ওডিসি-৩ জাতের শজনে চাষে বছরে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন। তিনি যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের বাসিন্দা। তার এমন সফলতায় এই এলাকায় সজনে চাষাবাদে বিপুল পরিমাণ কৃষকের স্বাভলম্ভী হবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়,এই কৃষক বছর জুড়ে নানা ফসল চাষাবাদ করেন। উৎপাদন খরচ বাদে ফসল চাষাবাদে তিনি তেমন কোন আয় করতে পারছিলেন না। এতে চরম হতাশায় অন্য কোন অর্থকরি পসল চাষাবাদে কথঅ চিন্তা করেন। এমন সময় তিনি যশোর হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে ২০২৩ সালে ভারত থেকে ওডিসি-৩ জাতের ৩০০টি চারা সংগ্রহ কওে নিজের জমিতে লাগান। প্রথম দিকে এলাকার লোকজন তার এই চাষাবদ নিয়ে হাসি তামাশা শুরু করেন। কিন্তু তিনি ছিলে আশাবাদী। নিয়মিত পরিচর্যায় কয়েক মাসের মধ্যেই তার জমিতে লাগানো গাছে সজনে ধরতে শুরু করে। এরপর থেকে তিনি সজনে বিক্রি করে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন। এই চাষাবাদে সব মিলিয়ে তার ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এরই মধ্যে তিনি প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকার সজনে বিক্রি করেছেন। এই জমি থেকে চলতি মৌসুমে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার সজনে বিক্রির আশা করছেন।
আক্তারের জমিতে গিয়ে দেখা যায়, গাছ জুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে লম্বা, সবুজ শজনে। বর্তমানে তার জমির সুস্থ গাছগুলোয় ৮ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত শজনে ধরছে। একটি গাছ থেকে পাঁচ থেকে ছয় বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যেতে পারে। এসব গাছে বছরের বিভিন্ন সময় ফুল ফল ধরায় বাড়তি আয় করা যায়।
আক্তারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি কেজি শজনে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বছরে তিন থেকে চার দফা ফলন পাওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি। তার মতে এ চাষাবাদে কৃষকদের অনেক টাকা আয় করার সম্ভব।
এই কৃষকের সাফল্য দেখে এলাকার অনেকেই এ জাতের সজনে চাষাবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আক্তারের জমি দেখতে আসছেন।
যশোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ দীপংকর দাস জানিয়েছেন, টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে ওডিসি-৩ জাতের মানসম্মত চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। রোপণের পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে ফলন শুরু হতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে চাষের পাশাপাশি বসতবাড়িতেও এ শজনে চাষ করা সম্ভব। গত বছর হর্টিকালচার সেন্টারে প্রায় সাত হাজার চারা উৎপাদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছয় হাজার চারা কৃষকরা সংগ্রহ করেন। এবার ১০ হাজার চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক প্রতাপ মন্ডল জানিয়েছেন, ওডিসি-৩ জাতের শজনে সারা বছর ফুল ও ফল দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সরকারি সহায়তা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানির উপযোগী বাজার গড়ে তোলা গেলে এ ফসল দেশের পুষ্টিচাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি কৃষকদের আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়