
রংপুর সংবাদদাতাঃ
রংপুরে শুরু হয়েছে আগাম আলু চাষাবাদ। মাঠে মাঠে আলু চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। বাড়তি খরচে এবার আলু চাষে টানা লোকশান তুলে লাভের আশা করছেন চাষীরা।
জানা যায়,চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় ৫৩ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। এ থেকে ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৫২৫ মেট্রিকটন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে আগাম আলুর আবাদ হয়েছে।
বিএডিসি রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারীÑএই পাঁচ জেলায় সংস্থাটির অনুমোদিত ডিলার রয়েছেন ৮১৩ জন। চলতি মৌসুমে এসব জেলায় ৪ হাজার ৪৯৩ মেট্রিক টন বীজ আলু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে বীজ আলু বিক্রি শুরু হয়েছে। ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১৭৯ জন ডিলার প্রায় ৯৬০ মেট্রিক টন বীজ আলু সংগ্রহ করেছেন। বিক্রি বাড়াতে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ডিলারদের জন্য প্রতি কেজি বীজ আলুতে এক টাকা ছাড় ঘোষণা করেছে বিএডিসি।
আগের মৌসুমের লোকসান কাটিয়ে উঠতে আগাম জাতের আলু চাষের পরিকল্পনা করছেন রংপুর অঞ্চলের অনেক কৃষক।
রংপুর সদর উপজেলার কৃষক জুয়েল হোসেন জানান,আগের মৌসুমের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার আগাম আলু চাষের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। বীজের দাম গতবারের তুলনায় কিছুটা কমলেও সার, কীটনাশক, পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। তাই ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়া তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কাউনিয়া উপজেলার বাহাগীলি গ্রামের কৃষক শহিদুর রহমানের ১০ বিঘা জমিতে অ্যাস্টেরিক জাতের আলু রোপণের কাজ চলছে। সেখানে কর্মরত শ্রমিক সরদার আলিম উদ্দিন জানান, আগাম আলু রোপণের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। গত বছর এক বিঘা জমিতে আলুর বীজ রোপণের মজুরি ছিল এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। এবার তা বেড়ে দুই হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে। তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি আয় করেও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিএডিসি রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মাসুদ সুলতান বলেন, কৃষকদের চাহিদার ভিত্তিতে আগাম বুকিং দিয়ে ডিলাররা বীজ আলু সংগ্রহ করেন। বীজ বিক্রি বাড়াতে ডিলারদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
চলতি মৌসুমে বীজ আলুর দাম কিছুটা কমলেও অন্যান্য কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি কৃষকদের ভাবিয়ে তুলেছে। পরিবহন ব্যয়, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে আলু উৎপাদনের মোট খরচ বাড়ছে।
কৃষকদের প্রত্যাশা, আগাম আলু বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, আগাম আলুর ভালো ফলন ও বাজারে উপযুক্ত দাম পাওয়া গেলে আগের মৌসুমের লোকসান কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবেন কৃষকেরা। বিএডিসির বীজে ছাড় এবং কৃষি বিভাগের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের উদ্যোগও এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তবে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজারদর নিশ্চিত করাই হবে নতুন মৌসুমে কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রধান শর্ত।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রংপুরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ মো. সাইফুল আলম বলেন, চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আলু উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগাম আলু চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারবেন বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃ/স/জয়